মৃত্যুকে ছুঁয়ে ফিরে এলেন আশুতোষ!
উত্তরাখণ্ডের ভয়াবহ দুর্যোগে কাঁপছে গোটা দেশ। পাহাড়ি নদীর হঠাৎ ফুলে ওঠা জলস্রোত, মেঘভাঙা বৃষ্টি আর কাদার ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু এলাকা, বিশেষত উত্তরকাশীর ধরালী গ্রাম ও হর্ষিল উপত্যকা। ঠিক এই বিপর্যয়ের ঠিক আগেই সেই এলাকাতেই ছিলেন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ, অভিনেতা আশুতোষ সেমওয়াল। ভাগ্য সহায় ছিল বলেই, অল্পের জন্য মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন তিনি।
আশুতোষ নিজেই এই ঘটনা জানিয়েছেন। কাজের সূত্রে তিনি গিয়েছিলেন ধরালী গ্রামে। তবে সৌভাগ্যবশত, দুর্যোগ শুরু হওয়ার এক দিন আগেই সেখান থেকে নিচে নেমে আসেন। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “আমি এখন নিরাপদে আছি। মনে হচ্ছে, ঈশ্বর যেন আমায় আগেই সেখান থেকে সরিয়ে আনেন। যে সময়ে ভয়াবহ বন্যা আর ধস শুরু হয়, আমি তখন অনেক দূরে।”
আশুতোষের নিজের বাড়িও উত্তরাখণ্ডেই—পিপলকোটী শহরে। তবে সাময়িকভাবে তিনি দেহরাদূনে ছিলেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। কারণ আগামী নভেম্বরেই তাঁর বিয়ে। বলেন, “বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে মা-বাবার পাশে থাকতে এসেছিলাম। শুটিং ছিল না, তাই এই সুযোগটা নিয়েছিলাম। কে জানত এমন একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে!”
দেহরাদূনে বসেই তিনি ধরালীর ভয়াবহতার ছবি ও ভিডিও দেখেছেন। তাঁর নিজেরই চেনা জায়গা, পরিচিত মুখ—সেই সবকিছু চোখের সামনে কাদার স্রোতে নিশ্চিহ্ন হতে দেখে শিউরে উঠেছেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, দোকান, হোটেল—সব কিছু।
উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সেনা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সাধারণ মানুষও এগিয়ে এসেছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। আশুতোষ বলেন, “সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। শুধু মানুষ নয়, গাছপালা, পশুপাখিকেও বাঁচানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। আমরা যারা নিরাপদে আছি, তাদের উচিত—অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, সাহায্যের হাত বাড়ানো।”
এই দুর্যোগের পরে আশুতোষ আরও এক বার বুঝেছেন জীবন কতটা অনিশ্চিত। বলেন, “একটা দিন দেরি হলেই হয়তো আমি আজ এখানে কথা বলতাম না। এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা আরও বেড়েছে।”
উল্লেখ্য, ১২,৬০০ ফুট উচ্চতায় সেই মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়েছিল, যা হড়পা বান ডেকে এনেছে। নদীর পাড় ভেঙে ধেয়ে এসেছে ধ্বংসের স্রোত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এত দ্রুত গতিতে এত বড় বিপর্যয় তাঁরা আগে দেখেননি।
আশুতোষের মতো অনেকেই হয়তো ভাগ্যবান ছিলেন, কিন্তু যাঁরা এখনও নিখোঁজ, যাঁদের ঘর নেই, পরিবার নেই—তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি। মৃত্যু থেকে ফিরে আসা অভিনেতার কণ্ঠে তাই একটাই বার্তা—‘‘বেঁচে থাকা মানে শুধু নিজে নিরাপদ থাকা নয়, অন্যের বাঁচার চেষ্টা করাও।’’
দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র