মৃণালদার স্মৃতি আজও জীবন্ত, তিনি কখনও আপস করেননি নিজের বিশ্বাসে: স্মৃতিচারণায় মমতাশঙ্কর

মৃণালদার স্মৃতি আজও জীবন্ত! আজ চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। আর এই বিশেষ দিনে তাঁর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিতে ফিরে গেলেন অভিনেত্রী মমতাশঙ্কর। ‘মৃগয়া’, ‘ওকা উরি কথা’, ‘একদিন প্রতিদিন’ ও…

May 14, 2026
1 min read

মৃণালদার স্মৃতি আজও জীবন্ত!

আজ চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। আর এই বিশেষ দিনে তাঁর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিতে ফিরে গেলেন অভিনেত্রী মমতাশঙ্কর। ‘মৃগয়া’, ‘ওকা উরি কথা’, ‘একদিন প্রতিদিন’ ও ‘খারিজ’— এই চারটি ছবিতে তিনি কাজ করেছিলেন মৃণাল সেনের সঙ্গে। খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন এক অদম্য, স্পষ্টবাদী ও নীতিনিষ্ঠ পরিচালককে।

মমতাশঙ্কর জানান, অভিনয়ে আসার কোনও পরিকল্পনাই তাঁর ছিল না। পরিবারও চাইত না তিনি অভিনয় জগতে আসুন। কিন্তু মৃণাল সেনের সঙ্গে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা তাঁকে ধীরে ধীরে এই পথেই নিয়ে আসে। তাঁর কথায়, “মৃণালদা আমাকে বলেছিলেন, যদি কখনও অভিনয় করার ইচ্ছে হয়, প্রথমে তাঁকেই জানাতে। সেই কথাই রেখেছিলাম।”

‘মৃগয়া’-র শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এখনও তাঁর কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। চরিত্রের বাস্তবতা বজায় রাখতে পরিচালক কোনও আপস করতে দিতেন না। মমতাশঙ্কর জানান, চরিত্রের জন্য মেকআপে গায়ের রং বদলানোর বদলে তিনি নিজে রোদে পুড়ে সেই রূপ অর্জন করতে চেয়েছিলেন। প্রথমে সংশয় থাকলেও পরে মৃণাল সেন তাঁকে সুযোগ দেন। দীর্ঘ সময় প্রকৃতির মধ্যে থেকে নিজেকে তৈরি করেছিলেন তিনি।

‘ওকা উরি কথা’ ছবিতেও একই কঠোর প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। খালি পায়ে হাঁটা, কাঁটা-পাথরের রাস্তায় অভ্যস্ত হওয়া— সবই ছিল চরিত্রের স্বাভাবিকতা ফুটিয়ে তোলার জন্য। মমতাশঙ্কর বলেন, মৃণাল সেনের নির্দেশ ছিল তাঁর কাছে বেদবাক্যের মতো।

তবে স্মৃতির মধ্যে রয়েছে এক কষ্টের অধ্যায়ও। ‘আকালের সন্ধানে’ ছবিতে তাঁকে চেয়েছিলেন মৃণাল সেন। কিন্তু অন্য একটি ছবির শুটিংয়ের কারণে সময় মেলেনি। সেই চরিত্র পরে করেন স্মিতা পাটিল। মমতাশঙ্করের মতে, সেই সিদ্ধান্তে কোথাও যেন তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি হলেও, স্মিতা অসাধারণ কাজ করেছিলেন।

‘একদিন প্রতিদিন’-এও একই ঘটনা ঘটে। সদ্য মা হওয়ার কারণে দীর্ঘ শুটিং সম্ভব ছিল না তাঁর পক্ষে। তাই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে তাঁকে নিয়েছিলেন পরিচালক। তিনি জানান, মৃণাল সেনের ছবিতে কাজ না করার আক্ষেপ তিনি রাখতে চাইতেন না।

‘খারিজ’ ছবির অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে বিশেষ। ছবির সাফল্যের পর অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাঠিয়েছিলেন মৃণাল সেন— যা তাঁকে বিস্মিত করেছিল। সেই চেক আজও তিনি যত্ন করে রেখেছেন।

মমতাশঙ্করের কথায়, মৃণাল সেন ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের মতাদর্শে অটল ছিলেন। কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ না দিলেও, তিনি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতেন। তাঁর মতে, এই ধরনের দৃঢ়তা আজকের দিনে খুবই বিরল।

শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, মৃণাল সেন ও তাঁর স্ত্রী আজ আর নেই, কিন্তু স্মৃতি রয়ে গেছে গভীরভাবে। জন্মদিনে দই নিয়ে দেখা করতে যাওয়ার অভ্যাস, রাত হলে ফোন করে খোঁজ নেওয়া— এসবই আজও মনে পড়ে তাঁর। “এখনও মনে হয়, ফোন করলে উনি বলবেন— ‘আমি বেঁচে আছি’,” বলেন মমতাশঙ্কর।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *