সূর্যকুমারের এক পদক্ষেপে আইপিএ ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা!
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব হারানোর পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন সূর্যকুমার যাদব। তবে এ বার কারণ জাতীয় দল নয়, তাঁর আইপিএ ভবিষ্যৎ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সূর্যের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ ঘিরে ক্রিকেটমহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে— তিনি কি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার পথে?
সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, সূর্যকুমারের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সংক্রান্ত প্রায় সব পোস্ট ও ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি ছবি রয়ে গিয়েছে, যেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ভারতের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ও রোহিত শর্মা। শুধু তাই নয়, সূর্য আর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে অনুসরণ (ফলো) করছেন না। পাল্টা মুম্বইও তাঁকে আনফলো করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
এই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে আরেকটি বিষয়। মুম্বইয়ের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্যকেও আর ফলো করছেন না সূর্য। অনেকের প্রশ্ন, আইপিএ-তে অধিনায়কত্ব না পাওয়ার হতাশাই কি এর নেপথ্যে?
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর রোহিত শর্মার অবসরের পরে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন সূর্যকুমার। তাঁর নেতৃত্বে ভারত একটি বিশ্বকাপও জিতেছে। কিন্তু মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। বরং হার্দিক পাণ্ড্যকেই অধিনায়ক রাখা হয়েছে। ফলে সূর্যের অসন্তোষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেক ক্রিকেটবিশেষজ্ঞ।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, গত আইপিএ মৌসুম সূর্যের জন্য খুব একটা স্মরণীয় ছিল না। ১৩ ম্যাচে তিনি করেছেন ২৭০ রান। গড় ছিল ২০.৭৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৭.৫৪। দুটি অর্ধশতরান থাকলেও ধারাবাহিকতা ছিল না। অনেকের মতে, জাতীয় দলে তাঁর অবস্থান দুর্বল হওয়ার পেছনেও এই ফর্মহীনতা বড় কারণ।
তবে মুম্বই ফ্র্যাঞ্চাইজির আস্থা যে পুরোপুরি হারাননি, তারও প্রমাণ রয়েছে। হার্দিকের অনুপস্থিতিতে চারটি ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সূর্য। তাই তিনি সত্যিই দল ছাড়তে চাইছেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
যদি শেষ পর্যন্ত তিনি দলবদলের সিদ্ধান্ত নেন, তবে আগামী আইপিএ নিলামে তাঁকে ঘিরে বড় লড়াই দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের নাম ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। কেকেআরের হয়ে এক সময় খেলেছেন সূর্য, ছিলেন সহ-অধিনায়কও। যদিও সেই সময় ব্যাটিং অর্ডারে খুব বেশি সুযোগ পেতেন না। পরে মুম্বইয়ে যোগ দিয়েই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। আইপিএ-তে ধারাবাহিক সাফল্যের সুবাদে জাতীয় দলেও জায়গা পাকা করেন তিনি।
এ দিকে, ভারতের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রেয়স আয়ার। সূর্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন স্পিনার Ravichandran Ashwin। তাঁর মতে, ব্যাট হাতে খারাপ সময় গেলেও একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে আরও কিছুটা সময় দেওয়া যেত।
সব মিলিয়ে, সূর্যকুমার যাদবের ভবিষ্যৎ এখন ক্রিকেটমহলের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়। মুম্বইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের এই দূরত্ব কি সত্যিই বিচ্ছেদের ইঙ্গিত, নাকি শুধুই জল্পনা— তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?