মিষ্টিতে জুড়বে পুষ্টি?
মিষ্টি খাবারের প্রতি সবারই একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকে। তবে, মিষ্টি খেলে কি ওজন বাড়বে না তো? একেবারেই নয়! স্বাস্থ্যকর উপায়ে মিষ্টি তৈরি করতে চাইলে খেজুরের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। খেজুরে প্রচুর পটাশিয়াম, ডায়েটরি ফাইবার এবং শক্তির উৎস রয়েছে। তাই, চিনির পরিবর্তে খেজুর দিয়ে তৈরি মিষ্টি শুধু সুস্বাদু নয়, পুষ্টিকরও। শীতের সময়ে এই পুষ্টিকর মিষ্টি খেতে আরও মজাদার। তাহলে জেনে নিন, খেজুর দিয়ে কী কী মিষ্টি পদ বানানো যায় যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
১. খেজুরের ক্ষীর:
বিভিন্ন ধরনের ক্ষীর খেতে সবাই পছন্দ করে। তবে যদি স্বাস্থ্যকর ক্ষীর খেতে চান, তাহলে খেজুর দিয়ে তৈরি করুন একটি সুস্বাদু ক্ষীর। প্রথমে ১০-১২টি রসালো খেজুর নিন এবং তার বীজ ফেলে গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন। একইভাবে কিছু কাজুবাদাম ও কাঠবাদাম গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন। এখন একটি পাত্রে ৫০০ মিলিলিটার ঘন দুধ নিয়ে তা জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। তারপর খেজুর এবং বাদাম বেটে ওই দুধে মিশিয়ে দিন এবং ভালো করে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না এটি ঘন হয়ে যায়। ইচ্ছা করলে এতে একটু এলাচ গুঁড়ো এবং পাটালি মিষ্টি যোগ করতে পারেন। খেজুরের ক্ষীর পরিবেশন করার সময় উপরে কাজু এবং খেজুর কুচিয়ে ছড়িয়ে দিন। এর মিষ্টি স্বাদ ও পুষ্টি আপনাকে একবারে মুগ্ধ করে দেবে।
২. খেজুরের বরফি:
বরফি হলো একটি খুব জনপ্রিয় মিষ্টি, যা খেতে বেশ মজাদার। খেজুর দিয়ে বরফি তৈরি করতে প্রথমে একটি পাত্রে ১৫-২০টি খেজুর নিয়ে সেগুলোর বীজ ফেলে গরম জলে সেদ্ধ করে নিন। জল খুব বেশি দেওয়া যাবে না, কারণ খেজুর গলে একদম মাখো মাখো হয়ে গেলে এর সাথে খুব সামান্য জলই যথেষ্ট। খেজুর গলে গেলে, এতে ২ চামচ কর্নফ্লাওয়ার যোগ করে ভালভাবে মেশান। তারপর আখরোট দিয়ে মেশান। এই মিশ্রণটি একটি প্লেটে ঢেলে দিন এবং চামচ বা খুন্তি দিয়ে সমান করে দিন। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই এটি জমাট বাঁধে যাবে। এরপর বরফির আকারে কেটে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে খেজুরের বরফি, যা একেবারে পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু।
৩. খেজুরের লাড্ডু:
স্বাস্থ্যকর মিষ্টির তালিকায় লাড্ডু থাকলে কেমন হয়? খেজুর ও বিভিন্ন ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে বানানো লাড্ডু খেতে বেশ মজাদার এবং পুষ্টিকরও। প্রথমে খেজুরের বীজ ফেলে মিক্সিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। জল কম দেওয়া ভালো, যাতে মিষ্টি খুব বেশি তরল না হয়ে যায়। এবার একটি কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে কুচিয়ে রাখা কাজু, কাঠবাদাম এবং আখরোট নাড়াচাড়া করুন। এরপর সামান্য নুন যোগ করুন এবং বেটে রাখা খেজুর মিশিয়ে দিন। সমস্ত উপকরণ একসাথে নাড়াচাড়া করে ঘন হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে দিন। এরপর একটু ঠান্ডা হলে মিশ্রণটি হাতে নিয়ে লাড্ডু তৈরি করে নিন। খেজুর ও ড্রাই ফ্রুটসের এই লাড্ডু খুব সুস্বাদু এবং পুষ্টিতে ভরপুর।
এইভাবে, খেজুর দিয়ে বানানো মিষ্টি খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর। চিনির পরিবর্তে খেজুর ব্যবহার করলে আপনি যে শুধু মিষ্টির স্বাদ উপভোগ করবেন, তা নয়, পুষ্টিও পাবেন। তাই, শীতের এই সময়টাতে স্বাস্থ্যকর মিষ্টি বানিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপভোগ করুন।