মিল্কিওয়েকে গিলে খাবে না অ্যান্ড্রোমেডা?
বছরের পর বছর ধরে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলে আসছিলেন, এক দিন না এক দিন অ্যান্ড্রোমেডা ছায়াপথ গিলে ফেলবে আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি, আকাশগঙ্গাকে—মানে মিল্কিওয়েকে। সেই সম্ভাবনা এতটাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল যে পাঠ্যবই থেকে গবেষণাগারে, সর্বত্র এই ভবিষ্যদ্বাণীই চলত। বলা হত, এই দু’টি গ্যালাক্সি একে অপরের দিকে এগোচ্ছে এবং এক সময়ে মিশে যাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় এই প্রচলিত ধারণায় লাগল বড়সড় ধাক্কা! নতুন তথ্য বলছে, অ্যান্ড্রোমেডার হাতে শেষ পর্যন্ত ধরা না-ও পড়তে পারে আমাদের মিল্কিওয়ে।
এই যুগান্তকারী গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ। ফিনল্যান্ডের হেলসিন্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিল সাওয়ালার নেতৃত্বে গবেষক দল একটি নতুন বিশ্লেষণ করেন, যেখানে তারা পূর্ববর্তী তথ্যগুলো নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। দেখা যায়, আগামী এক হাজার কোটি বছরের মধ্যে মিল্কিওয়ে ও অ্যান্ড্রোমেডার সংযুক্তির সম্ভাবনা ৫০ শতাংশেরও কম।
এত দিন জানা ছিল, অ্যান্ড্রোমেডা, যেটি আকারে আমাদের মিল্কিওয়ের প্রায় দ্বিগুণ, ধীরে ধীরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১১০ কিলোমিটার বেগে মিল্কিওয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু এই নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে দুই ‘অনুঘটকের’ কথা—লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড (এলএমসি) এবং ট্রাইঅ্যাঙ্গুলাম গ্যালাক্সি (এম৩৩)। এদের মহাকর্ষীয় প্রভাব মিল্কিওয়ে ও অ্যান্ড্রোমেডার গতিপথে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এম৩৩ যেখানে অ্যান্ড্রোমেডার গতি শ্লথ করছে, সেখানে এলএমসি মিল্কিওয়েকে সরে যেতে সাহায্য করছে। ফলে দুই গ্যালাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ বা সংযুক্তির সম্ভাবনা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি কোনওভাবে ভবিষ্যতে মিল্কিওয়ে ও অ্যান্ড্রোমেডা সত্যিই এক হয়ে যায়, তাতেও পৃথিবীর মতো গ্রহের কোনও বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কারণ, ছায়াপথে এক একটি নক্ষত্রের মধ্যে বিপুল ফাঁকা জায়গা থাকে। তাই সংযুক্তির সময় প্রকৃত সংঘর্ষ প্রায় হয়ই না। বরং দুই গ্যালাক্সির মিশ্রণে নতুন একটি বিশাল উপবৃত্তাকার ছায়াপথের জন্ম হতে পারে।
অবশ্য এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিশেষ করে অ্যান্ড্রোমেডার গতিপথ তথা ট্রান্সভার্স ভেলোসিটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা একমত নন। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এই গতিকে বুঝে নেওয়া সম্ভব হলে, দুই ছায়াপথের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আরও নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে।
এইভাবে একটি শতাব্দীপ্রাচীন তত্ত্বের মোড় ঘুরে গেল। এবার হয়তো মিল্কিওয়ে তার নিজের অস্তিত্ব নিয়েই গর্বের সঙ্গে মহাশূন্যে ভেসে থাকবে—অ্যান্ড্রোমেডার কোনও ভয় না করেই।
টাটকা লাউ কিনবেন কীভাবে? চেনুন কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মেশানো সব্জি