মারাদোনার স্মৃতি সঙ্গী করেই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসিরা!
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করে দিল আর্জেন্টিনা। লিয়োনেল মেসিদের বিশেষ অনুরোধে সাড়া দিয়ে ফিফা সেমিফাইনালে তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সির বদলে গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলার অনুমতি দিয়েছে। আর্জেন্টিনা শিবিরের বিশ্বাস, এই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার এক ঐতিহাসিক স্মৃতি।
ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড তাদের সাদা হোম জার্সি পরবে, আর আর্জেন্টিনা খেলবে গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সিতে। সাধারণ জার্সি বদলের সিদ্ধান্ত হলেও এর পিছনে রয়েছে চার দশক পুরনো ফুটবল ইতিহাস।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই গাঢ় নীল জার্সি পরেই খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই ফুটবল ইতিহাসের দুই বিখ্যাত মুহূর্ত সৃষ্টি করেছিলেন দিয়েগো মারাদোনা— বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে একক দক্ষতায় করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ২-১ ব্যবধানে সেই ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপও জিতেছিল আর্জেন্টিনা। সেই স্মৃতিকেই আবার সামনে আনতে চাইছেন মেসিরা।
এর পর বিশ্বকাপে আরও দু’বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। ১৯৯৮ সালে একই নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ২০০২ সালে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে খেলতে নেমে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল। সেই পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি বিশ্বকাপেও একবার অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলেছে আর্জেন্টিনা। জর্ডনের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা। বাকি ম্যাচগুলিতে অবশ্য আকাশি-সাদা জার্সিতেই মাঠে নেমে সাফল্য পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
তবে আর্জেন্টিনার কাছে এই সিদ্ধান্ত শুধুই কুসংস্কার বা সৌভাগ্যের প্রতীক নয়। মারাদোনার উত্তরাধিকার, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লড়াই এবং অতীতের স্মৃতিকে সামনে রেখেই সেমিফাইনালে নামতে চাইছেন মেসিরা। মাঠে মারাদোনা না থাকলেও, তাঁর স্মৃতি এবং ইতিহাসকে সঙ্গী করেই ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগোতে মরিয়া আর্জেন্টিনা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?