মাতৃত্বের প্রস্তুতি শুরু হোক আগেই!
মা হওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু আবেগের নয়, এটি শরীর ও জীবনের বড় প্রস্তুতিরও সময়। অনেকেই ভাবেন, গর্ভধারণের পর থেকেই পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া দরকার। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, আসল প্রস্তুতি শুরু হওয়া উচিত তারও আগে— যখন আপনি মাতৃত্বের পরিকল্পনা করছেন।
কেন আগে থেকেই পুষ্টির দিকে নজর জরুরি?
ভ্রূণ গর্ভে আসার পর থেকেই মায়ের শরীর থেকেই পুষ্টি পেতে শুরু করে। কিন্তু অনেক সময় গর্ভাবস্থার কথা বুঝতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তাই শুরু থেকেই শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিনের সঠিক মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি। এতে শুধু গর্ভধারণ সহজ হয় না, ভবিষ্যৎ সন্তানের সুস্থ বিকাশের পথও মসৃণ হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, পরিবার পরিকল্পনার সময় নারী-পুরুষ উভয়েরই স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ওজন, হিমোগ্লোবিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২, ফোলিক অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি— সবকিছুর ভারসাম্য থাকা খুবই প্রয়োজন।
ওজন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ওজন বেশি হলে ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে, যা গর্ভাবস্থায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবার ওজন খুব কম হলে শিশুর জন্মের সময় ওজন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিকল্পনার সময় থেকেই সঠিক ডায়েট ও জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।
ফোলেট: মাতৃত্ব প্রস্তুতির ‘হিরো’ পুষ্টি
মাতৃত্ব পরিকল্পনার সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় ফোলেটকে। এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের গঠনে অপরিহার্য। শুরুতেই ফোলেটের অভাব হলে স্পাইনাল বা মস্তিষ্কজনিত জন্মগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে ফোলেট সাপ্লিমেন্টও নেওয়া হয়।
মা হওয়ার ভাবনা থাকলে পাতে কী রাখবেন?
ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার: পালং, মেথি, ব্রকোলি, মুসুর ডাল, লেবুজাতীয় ফল
প্রোটিন: ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, রাজমা, ছোলা, টক দই
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: ব্রাউন রাইস, মিলেট, ওটস, রাঙা আলু
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট: আমলকি, বেদানা, বেরি, গ্রিন টি, হলুদ
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: আখরোট, তিসি, চিয়াবীজ, ঘি, তৈলাক্ত মাছ
আয়রন: শাকসবজি, ডিম, সজনেপাতা
জিঙ্ক ও ভিটামিন: বাদাম, বীজ, টম্যাটো, সাইট্রাস ফল
কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
ময়দার খাবার, অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি, সফট ড্রিঙ্ক, সাদা পাউরুটি— এসব কমানোই ভালো। পাশাপাশি ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা জরুরি।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনও জরুরি
সঠিক ডায়েটের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো— এগুলোও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে এবং ভবিষ্যৎ মাতৃত্ব আরও নিরাপদ হয়।
সার কথা: মা হওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। সচেতন খাবার, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক পুষ্টিই এই যাত্রার সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই