মাটি-সংকটে কুমোরটুলি!
দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এই সময়টায় সাধারণত কলকাতার কুমোরটুলিতে পুরোদমে চলে প্রতিমা তৈরির কাজ। কিন্তু এ বছর শিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ, প্রতিমা তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ— বিশেষ ধরনের এঁটেল মাটির জোগান প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ।
কুমোরটুলির শিল্পীদের দাবি, প্রতিমা গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মাটি মূলত ডায়মন্ড হারবার এলাকা থেকে আসে। কিন্তু স্থানীয় স্তরে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে সেই মাটি আর কলকাতায় পৌঁছচ্ছে না। ফলে প্রতিমা তৈরির কাজ কার্যত থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মৃৎশিল্পীদের সংগঠনের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের আশা, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং প্রয়োজনীয় মাটি কুমোরটুলিতে পৌঁছবে।
প্রতি বছর পুজোর মরসুমে কুমোরটুলিতে প্রায় ৫০০ লরি মাটি লাগে। সাধারণত জুন মাসের মধ্যেই বহু প্রতিমায় প্রথম দফার মাটির কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর সেই কাজ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। শিল্পীদের মতে, ভোটের আগেই শেষবার মাটিবোঝাই লরি এসেছিল। তারপর থেকে নতুন করে আর মাটি মেলেনি।
সমস্যার জেরে শুধু প্রতিমা তৈরির কাজ নয়, বহু কারিগরের জীবিকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাজ না থাকায় কেউ কেউ ইতিমধ্যেই কুমোরটুলি ছেড়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে চলে গিয়েছেন। শিল্পীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও অনেকে পেশা বদল করতে বাধ্য হবেন।
মৃৎশিল্পীদের মতে, প্রতিমা নির্মাণের জন্য সাধারণ মাটি যথেষ্ট নয়। প্রথম স্তরে খড়ের কাঠামো শক্ত করতে বিশেষ এঁটেল মাটি প্রয়োজন হয়। পরে অন্যান্য মাটি ব্যবহার করা হলেও সূক্ষ্ম কারুকাজ ও শেষ পর্যায়ের কাজেও ওই বিশেষ মাটির প্রয়োজন পড়ে।
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মিহি ও আঠালো পলি-মাটি মূলত গঙ্গার মোহনা অঞ্চলে পাওয়া যায়। ডায়মন্ড হারবারে গঙ্গা সমুদ্রের দিকে এগোনোর ফলে সেখানে জমা হওয়া পলি প্রতিমা তৈরির জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত হয়। অন্য নদীর মাটি দিয়ে একই মানের কাজ করা কঠিন।
মাটি সরবরাহকারীদের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে কুমোরটুলির বহু শিল্পী বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। কারণ, ইতিমধ্যেই দুর্গা, কালী ও জগদ্ধাত্রী প্রতিমার বহু অর্ডার হাতে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুজো কমিটির কাছে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এখন শিল্পীদের একটাই আশা— দ্রুত মাটির জোগান স্বাভাবিক হোক। কারণ, পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, আর সময় নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?