মাঝ-আকাশে একসঙ্গে বিকল তিন হাইড্রোলিক সিস্টেম!
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বিমান। তীব্র ঝাঁকুনিতে আহত হয়েছিলেন ২৪ জন। গত ৪ অগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এ বার সামনে এল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম একসঙ্গে সমস্যায় পড়েছিল। পাশাপাশি, ককপিটে থাকা এক পাইলটের ডোপ টেস্টও দু’বার পজ়িটিভ আসে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (AAIB) প্রাথমিক রিপোর্টে ওই পাইলটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কে সুপারিশ করা হয়েছে।
১৩৭ যাত্রী, ৮ কর্মী, আচমকাই বিপত্তি
ফুকেত-দিল্লি বিমানটিতে ১৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিন জন শিশু। সঙ্গে ছিলেন আট জন বিমানকর্মী। অর্থাৎ মোট ১৪৫ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি ভারতের আকাশসীমায় ঢোকার পরই বিপত্তি ঘটে।
ওড়িশার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা বিমানের উচ্চতা কমতে শুরু করে। প্রবল ঝাঁকুনিতে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চার জন কর্মী গুরুতর আহত হন বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ টার্বুল্যান্স বলে মনে করা হলেও পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেটিকে দুর্ঘটনা হিসাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়।
একসঙ্গে বিকল তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থা
ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমেই পর পর চাপ কমে যায়। প্রথমে গ্রিন সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্লু এবং ইয়েলো সিস্টেমেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
বিমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল রাখতে হাইড্রোলিক সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি ব্যবস্থাই একই সময়ে সমস্যায় পড়ায় বিমান আচমকা উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ড ধরে সেটি দ্রুত নীচে নামতে থাকে। পরে হাইড্রোলিক সিস্টেমগুলি ফের কাজ করতে শুরু করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আরও বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
পাইলটের ডোপ টেস্টে কী পাওয়া গিয়েছিল?
প্রাথমিক তদন্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে এক পাইলটের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম ডোপ টেস্টে তাঁর শরীরে সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য দ্বিতীয় বার পরীক্ষা করা হলে ফল একই আসে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই পাইলট পরে স্বীকার করেছিলেন যে বিমানে ওঠার আগে তিনি গাঁজা এবং ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ডিজিসিএ-কে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
তবে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম একই সময়ে কী ভাবে বিকল হল, সেই যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে—তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
এক দিকে পাইলটের ডোপ টেস্টের ফল নিয়ে তদন্তে গুরুতর বিষয় উঠে এসেছে, অন্য দিকে মাঝ-আকাশে তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমের একসঙ্গে সমস্যায় পড়ার ঘটনাও যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত তদন্তে এই দুই কারণের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল কি না এবং যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃত উৎস কী, তার স্পষ্ট উত্তর মেলার অপেক্ষা রয়েছে।
ঘটনার পরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—যদি বিমানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ মাঝ-আকাশে আচমকা একসঙ্গে বিকল হয়ে যায়, তা হলে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত? প্রাথমিক রিপোর্ট সেই প্রশ্নের সব উত্তর এখনও দেয়নি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।