তাহসানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে আবেগভরা স্মৃতি শেয়ার করলেন মিথিলা!
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও শিক্ষাবিদ রাফিয়াত রশিদ মিথিলা সম্প্রতি এক পডকাস্টে তাঁর প্রথম বিবাহ এবং বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে এক আবেগঘন স্বীকারোক্তি করেছেন। গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। যদিও তাঁদের বিচ্ছেদ ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটে, তার আগে ২০১৫ সাল থেকেই তাঁরা আলাদা থাকতেন। এই দীর্ঘ সময়টা মিথিলার কাছে ছিল মানসিক টানাপোড়েন, দ্বিধা ও অস্বীকারের এক কঠিন অধ্যায়।
পডকাস্টে মিথিলা জানান, তিনি অনেক দিন চেষ্টা করেছিলেন সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখার। কিন্তু দুই বছরের আলাদা থাকার পরও যখন কিছুই বদলাল না, তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন বিচ্ছেদের। তাঁর কথায়, “আমি অপেক্ষা করছিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু নিজের মনকে বুঝিয়ে তুলতে পারছিলাম না যে, আমাদের সম্পর্কটা আর কাজ করবে না। অবশেষে ২০১৭ সালে নিজেকে বোঝাতে পারলাম—হ্যাঁ, এই সম্পর্কটা শেষ।”
এই সময় মিথিলার মেয়ে আয়ার বয়স ছিল মাত্র এক বছর। এক তরুণী মা হিসেবে বিচ্ছেদ তাঁর কাছে ছিল আরও জটিল ও আবেগপ্রবণ। তিনি বলেন, “আমি তখন এক বছর বয়সি সন্তানের মা। আমার মনে হত, সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত মানসিক অবস্থা তখন ছিল না। আমি বুঝতেই পারছিলাম না কী ঠিক আর কী ভুল।” বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি উপলব্ধি করেন, মেয়েদের সমাজে একটি ‘নিজস্ব’ স্থান খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন। শ্বশুরবাড়ি অথবা বাবার বাড়ির মধ্যে ঘুরপাক খাওয়া জীবনে একটি ‘নিজের’ বাড়ির প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করেছিলেন।
মিথিলা আরও বলেন, “তখন বুঝেছিলাম মেয়েদের আসলে নিজের জায়গা থাকেই না। তাই আমি মনে করি, নারীদের জন্য সবথেকে জরুরি হল অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। সেটা না থাকলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে।” আজ তাঁর নিজের জায়গা আছে, নিজের আত্মবিশ্বাসও আছে—এটা তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি।
এক সময় তাহসান-মিথিলা জুটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিল, বিশেষত নাট্যজগতে। তাঁদের প্রেম, বিয়ে ও সন্তান জন্ম—সবই ছিল ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু যখন সেই সম্পর্ক ভেঙে গেল, তখন মিথিলা সিদ্ধান্ত নেন প্রকাশ্যে আর কোনও মন্তব্য না করার। তবুও এবার, এতদিন পর, একান্ত আলাপচারিতায় মিথিলা স্পষ্ট করে দিলেন—বিচ্ছেদ মানা তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না, বিশেষ করে তখন যখন তাঁর নিজের জীবনেও চলছিল এক অনিশ্চিত সংগ্রাম।
২০১৯ সালে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন মিথিলা। তবে তিনি ও তাহসান এখনও কন্যাসন্তান আয়রার দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করছেন। যদিও আয়ার বেশিরভাগ সময় কাটে মায়ের সঙ্গে।
এই স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র এক তারকার জীবনের কাহিনি নয়, বরং সমাজের বহু নারীর নীরব লড়াইয়ের প্রতিধ্বনি। নারীর আত্মপরিচয়, নিজের জায়গা আর স্বাধীনতার দাবিই যেন ফুটে উঠেছে মিথিলার এই অকপট কথায়।