ভোরের অগ্নিকাণ্ডে শোকস্তব্ধ কটক!
ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার ভোররাতে হাসপাতালের আইসিইউ-তে আচমকা আগুন লেগে অন্তত ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীদের বাঁচাতে গিয়ে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীও গুরুতরভাবে ঝলসে গিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ভোর প্রায় ৩টা নাগাদ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ট্রমা কেয়ারের আইসিইউ-তেই প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ওয়ার্ডে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা তৎপর হয়ে রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু সব রোগীকে সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী Mohan Charan Majhi নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইসিইউ-এর ভিতরেই সাতজন রোগীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় আরও তিনজন প্রাণ হারান। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়— আগুনে দগ্ধ হয়ে নাকি ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পরই জানা যাবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী Mukesh Mahaling। হাসপাতালের আহত রোগী ও কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আইসিইউ-এর বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে যদি কারও গাফিলতি সামনে আসে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
আগুন লাগার পর রোগীদের উদ্ধার করতে গিয়ে অন্তত ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী পোড়া জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ট্রমা কেয়ার ইউনিট থেকে মোট ২৩ জন রোগীকে দ্রুত অন্য ওয়ার্ড বা হাসপাতালের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁদের চিকিৎসাও চলছে।
প্রথমে হাসপাতালের কর্মীরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে আইসিইউ-এর বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ভয়াবহ ঘটনার পরে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আইসিইউ-এর মতো সংবেদনশীল জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
হাসপাতাল চত্বরে এখনও উদ্বেগের পরিবেশ। আহতদের চিকিৎসা চলছে, আর মৃতদের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?