‘ভূতের’ সন্ধানে: ট্যাব কেলেঙ্কারি ও গ্রেফতার শিক্ষক

ভূতের সন্ধানে গ্রেফতার শিক্ষক কলকাতায় ঘটে যাওয়া একাধিক ট্যাব কেলেঙ্কারির তদন্তে ‘ভূতের’ সন্ধানে জোর দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে কোচবিহারের দিনহাটার এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে মালদহ পুলিশ। এই কেলেঙ্কারি ও…

November 18, 2024
1 min read

ভূতের সন্ধানে গ্রেফতার শিক্ষক

কলকাতায় ঘটে যাওয়া একাধিক ট্যাব কেলেঙ্কারির তদন্তে ‘ভূতের’ সন্ধানে জোর দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে কোচবিহারের দিনহাটার এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে মালদহ পুলিশ। এই কেলেঙ্কারি ও তার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ। গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে প্রশ্ন উঠছে, ট্যাব কেলেঙ্কারির পেছনে একটি বড় চক্রের হাত রয়েছে কিনা, এবং কতটা ব্যাপক এই কেলেঙ্কারি।

নতুন তথ্য পাওয়া গেছে যে, প্রাথমিকভাবে স্কুল থেকে ‘ট্যাব’ প্রাপকদের তালিকা জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়। এরপর এই তালিকা বিকাশ ভবনে পাঠানো হয় এবং সেখানে সেগুলো ট্রেজারিতে পাঠানো হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনও ধরনের অনিয়ম বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই কেলেঙ্কারি হতে পারে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, বিকাশ ভবন ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলোতে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না।

মালদহ সাইবার ক্রাইম বিভাগের তদন্তকারীরা কোচবিহারের দিনহাটা থেকে মনোজিৎ বর্মণ নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মনোজিৎ বর্মণের নামে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে ১৫-২০টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার মধ্যে আটটি অ্যাকাউন্টে ট্যাব কেলেঙ্কারির টাকা ঢুকেছে। পুলিশ তার সমস্ত অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, ইসলামপুর থানায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি উত্তরবঙ্গের চোপড়া থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায়। পুলিশ জানায়, ট্যাব কেলেঙ্কারির তদন্তে পূর্ব মেদিনীপুর ও মালদহ জেলা পুলিশের অফিসাররা এই পাঁচজনকে আটক করেছে এবং তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের সন্দেহ, চোপড়া এবং আশেপাশের এলাকায় এই কেলেঙ্কারির জাল বিস্তৃত রয়েছে, এবং আরো কেউ এই ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের কাছে শহরের ১০৭ জন ছাত্র-ছাত্রীদের টাকা হাতানোর অভিযোগ এসেছে। তদন্তের মধ্যে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থেকে দু’জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। শহরের ন’টি থানায় দশটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রটি কেবল কলকাতা বা উত্তরবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কেরলেও এর সংযোগ মিলেছে। পুলিশের এক সূত্রে জানা গেছে, উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর এলাকার কিচকটলা হাইস্কুলের ১১ জন ছাত্র-ছাত্রীর টাকা কেরলের একটি অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে।

গোটা ঘটনাটিকে দেখে পুলিশের ধারণা, এই কেলেঙ্কারি বেশ ব্যাপক এবং বহু স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তদন্তে ইতিমধ্যে কয়েকজন নাম সামনে এসেছে, যারা অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়ে এই চক্রে অংশ নিয়েছিল। পুলিশ তাদের পিছনে আরও বড় মাথার খোঁজ করছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *