ভুবনেশ্বরের ডাবল সেঞ্চুরি!
আইপিএলের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত লেখা হলো ভুবনেশ্বর কুমারের নামে। বুধবার চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে এক উইকেট তুলে আইপিএলের প্রথম পেসার হিসাবে ২০০ উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ভুবি। এটাই প্রথমবারের মতো কোনও পেসার এই নজির স্থাপন করলেন।
ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তটি ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ। চেন্নাইয়ের ব্যাটার আয়ুষ মাত্রে মিড অফের দিকে খেলতে গিয়েছিলেন, কিন্তু অফ স্টাম্পের বাইরে আসা মন্থর গতির বল বুঝতে পারলেন না। রজত পাটীদারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এ উইকেট তুলে ভুবনেশ্বরের কৃতিত্বে আনন্দে উল্লসিত হন পুরো বেঙ্গালুরু দল। বিশেষ করে বিরাট কোহলি, যিনি সতীর্থের কীর্তি দেখে অসাধারণ খুশি হন।
ম্যাচের চার ওভারেই তিনি নিয়েছিলেন ৩ উইকেট, ৪১ রান খরচ করে। এই কীর্তির সাথে ভুবির আইপিএল ক্যারিয়ারের উইকেট সংখ্যা এখন ২০২, যা তাকে ইতিহাসে অনন্য করে তুলেছে।
ভুবনেশ্বর কুমারের আইপিএল যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। পরবর্তী বছরগুলোতে ধীরে ধীরে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি ধারাবাহিকভাবে বেগনি টুপি জিতেছেন, যথাক্রমে ২৩ এবং ২৬ উইকেট নিয়ে। এটি এক অনন্য কীর্তি, কারণ কেউই পরপর দুই মরসুমে বেগনি টুপি জিততে পারেননি।
ভুবির এই অসাধারণ পারফরম্যান্স শুধু হায়দরাবাদেই সীমাবদ্ধ নয়। পুণে ওয়ারিয়র্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের হয়ে তিনি আরও উইকেট তুলে নিয়েছেন। মোট ১৪৫ ম্যাচ খেলে হায়দরাবাদের হয়ে তিনি নিয়েছেন ১৫৭ উইকেট।
আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড এখনও যুজবেন্দ্র চহালের দখলে—২২৪ উইকেট। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কেকেআরের স্পিনার সুনীল নারাইন (১৯৩ উইকেট)। পেসারদের মধ্যে ভুবির পরেই অবস্থান করছেন ডোয়েন ব্র্যাভো এবং জসপ্রীত বুমরাহ, যাদের ১৮৩ টি করে উইকেট রয়েছে।
এ দিন ভুবি যে মাত্রায় বোলিং করেছেন, তা কেবল উইকেটের সংখ্যার কারণে নয়, কৌশল ও অভিজ্ঞতার কারণেও বিশেষ। অফ স্টাম্পের বাইরে মন্থর বল দিয়ে ব্যাটারদের ফাঁদে ফেলার দক্ষতা, মিড অফ-লং অনের ক্ষেত্রে সঠিক সাপোর্ট এবং ম্যাচের প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক বোলিং—সবই তাঁকে আইপিএলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস, দর্শকদের কণ্ঠে প্রশংসা—সব মিলিয়ে ভুবির এই কীর্তি আইপিএল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ডানহাতি এই পেসার শুধু বেঙ্গালুরু দলের জন্য নয়, পুরো ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না