ভিনিদের মার্কশিটে কলকাতা দশে দশ! ব্রাজ়িল আবার নিজে থেকেই খেলতে আসবে, আশাবাদী উদ্যোক্তা সৌরভ-অনুজ

ভিনিদের মার্কশিটে কলকাতা দশে দশ! কলকাতার মাটিতে ব্রাজ়িল ও উরুগুয়ের মতো ফুটবল শক্তিকে খেলতে দেখার অভিজ্ঞতা ঘিরে এখনও উচ্ছ্বাসের আবহ। এই দুই দলকে শহরে আনার নেপথ্যে ছিলেন ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর…

October 10, 2026
1 min read

ভিনিদের মার্কশিটে কলকাতা দশে দশ!

কলকাতার মাটিতে ব্রাজ়িল ও উরুগুয়ের মতো ফুটবল শক্তিকে খেলতে দেখার অভিজ্ঞতা ঘিরে এখনও উচ্ছ্বাসের আবহ। এই দুই দলকে শহরে আনার নেপথ্যে ছিলেন ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর দুই কর্ণধার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় ও অনুজ কিচলু। চার মাসের প্রস্তুতি, একাধিক চ্যালেঞ্জ এবং বিপুল আয়োজনের পর এখন তাঁদের মুখে স্বস্তি ও তৃপ্তির হাসি। তাঁদের দাবি, কলকাতার আতিথেয়তায় খুশি ব্রাজ়িল ও উরুগুয়ে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে ব্রাজ়িল নিজে থেকেই ভারতে খেলতে আসার আগ্রহ দেখাবে।

আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সৌরভ ও অনুজ দু’জনেই জানান, এই আয়োজন শুধু দুটি ফুটবল ম্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আন্তর্জাতিক ফুটবল মানচিত্রে ভারতের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির সুযোগও করে দিয়েছে এই উদ্যোগ।

মাঠ নিয়ে প্রথমে অসন্তুষ্ট ছিল ব্রাজ়িল

সৌরভ জানান, ব্রাজ়িলের প্রতিনিধিরা প্রথম বার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হননি। ফলে আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সকলের উপর চাপ আরও বেড়ে যায়। তবে ম্যাচের আগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। শেষ পর্যন্ত দলের সদস্যরা ব্যবস্থাপনা নিয়ে খুশি ছিলেন বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের।

অনুজের কথায়, ১ অক্টোবর রাতে কলকাতায় পৌঁছে পরের দিন একটি অনুশীলন করেছিল ব্রাজ়িল। তার পরেই ছিল ম্যাচ। এত অল্প সময়ের মধ্যেও বিমানবন্দরের অভিবাসন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শহরের খাবার, সংস্কৃতি ও মানুষের ব্যবহার— সব কিছু নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল দল।

যুবভারতীতে ৫০ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতি, মাঠের সংস্কার, স্টেডিয়ামের সাজসজ্জা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন সৌরভ ও অনুজ। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দুই দেশের ফুটবল সংস্থার সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও ভিডিয়ো কলে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

উরুগুয়েরও পছন্দ কলকাতা

উরুগুয়ে দল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় খেলার পর কলকাতায় এসেছিল। সৌরভ ও অনুজের দাবি, ওই দুই দেশের তুলনায় কলকাতায় বেশি সময় কাটিয়ে খুশি ছিলেন উরুগুয়ের ফুটবলারেরা। শহর ঘুরে দেখা, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা এবং আতিথেয়তা তাঁদের ভাল লেগেছিল।

এমনকি ইডেনে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেছেন উরুগুয়ের সদস্যেরা। সৌরভের বক্তব্য, তারকা ফুটবলার হয়েও তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল। উদ্যোক্তাদের মতে, এই অভিজ্ঞতা নিছক খেলার বাইরেও দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতে কী প্রয়োজন?

কলকাতা ছাড়ার আগে ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির তরফে ভারতীয় ফুটবলারদের বিদেশের লিগে খেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অনুজ। তাঁর মতে, ইউরোপের প্রথম সারির লিগে সুযোগ না পেলেও তৃতীয় বা চতুর্থ ডিভিশনে খেলার অভিজ্ঞতা ভারতীয় ফুটবলারদের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। বিদেশে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরলে জাতীয় দলও উপকৃত হবে।

ভারতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও আশাবাদী দুই উদ্যোক্তা। তাঁদের মতে, পানামা ও ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ভারত ভাল খেলেছে। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ক্লান্তি দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল বলেও মনে করেন তাঁরা।

আর্থিক ক্ষতি, না কি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ?

এই ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে বিপুল অর্থ খরচ এবং সেই টাকা তৃণমূল স্তরের ফুটবলে ব্যয় করা উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুজের বক্তব্য, তৃণমূল স্তরের উন্নতি যেমন জরুরি, তেমনই বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগও প্রয়োজন। তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াতে পারে এবং ভারতীয় ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সৌরভের মতে, এ ধরনের আয়োজনকে শুধু ক্রীড়া দফতরের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। পর্যটন, শিল্প এবং তথ্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অনুজের দাবি, পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িল অন্য রাজ্যে না গিয়ে কলকাতায় খেলেছে— এটি রাজ্যের কাছে গর্বের বিষয়।

তবে ভবিষ্যতে আরও ভাল আয়োজন করতে হলে প্রস্তুতির জন্য বেশি সময়, আগাম প্রচার এবং স্পনসরদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের আশা, কলকাতার এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের পথ খুলে দেবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *