ভারতের বিদ্যুতে সামান্য চার্জ বাড়তেই চিনের দিকে ঢাকা! ১২৭% বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার পথে বাংলাদেশ

ভারতের বিদ্যুতে সামান্য চার্জ বাড়তেই চিনের দিকে ঢাকা!! ভারতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অতিরিক্ত চার্জ নিয়েই আপত্তি তুলেছিল বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এ বার চিনের একটি প্রকল্প থেকে…

September 3, 2026
1 min read

ভারতের বিদ্যুতে সামান্য চার্জ বাড়তেই চিনের দিকে ঢাকা!!

ভারতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অতিরিক্ত চার্জ নিয়েই আপত্তি তুলেছিল বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এ বার চিনের একটি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার পথে এগোচ্ছে ঢাকা। কিন্তু সেখানে ইউনিটপ্রতি খরচ ভারতের তুলনায় প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনও পুরোপুরি স্বনির্ভর নয়। ফলে দীর্ঘ দিন ধরেই ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে তারা। আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি বা এসএনএ-র মাধ্যমে নির্দিষ্ট চার্জ নেওয়া হয়। চলতি বছরের অগস্টে সেই চার্জ ইউনিটপ্রতি ০.০১ টাকা ধার্য করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন।

বাড়তি খরচের আশঙ্কায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চার্জ কমানোর আবেদন জানায়। ঢাকার আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেই অনুরোধ মেনে নেয় ভারত। চার্জ অর্ধেক কমিয়ে ইউনিটপ্রতি ০.০০৫ টাকা করা হয়। তবে তার পরেও চিনের বিদ্যুৎ প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে ঢাকা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ঢাকার আমিনাবাজারে। চিনের চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনকে প্রকল্পটির দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। মূলত বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে সেখানে। প্রশাসনের আশা, ২০২৮ সালের অগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

তবে প্রকল্পটির ক্ষমতা মাত্র ৪২ মেগাওয়াট। আর সেই বিদ্যুতের জন্য ইউনিটপ্রতি প্রায় ২৫ টাকা খরচ হতে পারে। তুলনায়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত থেকে বাংলাদেশ গড়ে ইউনিটপ্রতি প্রায় ১১ টাকা দরে বিদ্যুৎ কিনেছে। অর্থাৎ চিনা প্রকল্পের বিদ্যুৎ পেতে খরচ প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ সরকারের যুক্তি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একই সঙ্গে শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমস্যা মেটানো যাবে। প্রকল্প থেকে জৈব সারও পাওয়ার কথা রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, মাত্র ৪২ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কতটা কমাতে পারবে? ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে বাংলাদেশ প্রায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছিল। সেই তুলনায় আমিনাবাজারের প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের ঘাটতিও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির জন্য দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ ৭০ কোটি ঘনফুটের আশপাশে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর জেরে কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের অভিযোগও উঠছে।

ভারতের বদলে চিনের দিকে বাংলাদেশের এই ঝোঁককে অবশ্য শুধুই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েনের সঙ্গে বিষয়টির রাজনৈতিক যোগ থাকতে পারে।

বিশেষ করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, যে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

ঢাকার এই পরিবর্তিত অবস্থানের দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লিও। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল সম্প্রতি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন ঘটনাক্রমের দিকে ভারত নজর রাখছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *