ভারতকে ৪,৫৬৬ কোটি টাকার সামরিক সহায়তায় মার্কিন সবুজ সংকেত!
ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৪,৫৬৬ কোটি টাকার সামরিক সহায়তা প্যাকেজে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এই প্যাকেজের আওতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত অ্যাপাচে যুদ্ধ-হেলিকপ্টার এবং এম-৭৭৭ আল্ট্রালাইট হাউইৎজ়ার কামানের জন্য যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক পরিষেবা প্রদান করা হবে।
মার্কিন ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি’ (ডিএসসিএ) সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নোট প্রকাশ করেছে। পরে মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিও প্রস্তাবটিতে সম্মতি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারত-আমেরিকা কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো প্যাকেজের মূল্য ৪৮.২২ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সংক্রান্ত সহায়তার জন্য বরাদ্দ প্রায় ১৯.৮২ কোটি ডলার এবং এম-৭৭৭ হাউইৎজ়ার সংক্রান্ত পরিষেবার জন্য প্রায় ২৩ কোটি ডলার।
ভারতীয় সেনার কাছে থাকা অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই যুদ্ধ-হেলিকপ্টার বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার হিসেবে পরিচিত। এটি একসঙ্গে ১২৮টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং একই সময়ে ১২টি লক্ষ্যবস্তুর উপর আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ব্যবস্থা এবং ৩০ মিমি অটোক্যাননসহ সজ্জিত এই হেলিকপ্টার দ্রুত আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর। ভারতের বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই এই হেলিকপ্টারের কার্যকারিতায় সন্তুষ্ট হওয়ায় অতীতে একাধিক ধাপে অ্যাপাচে সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে, এম-৭৭৭ আল্ট্রালাইট হাউইৎজ়ার ভারতীয় সেনার পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। টাইটেনিয়াম দিয়ে তৈরি হওয়ায় এর ওজন তুলনামূলক কম, ফলে হেলিকপ্টারের সাহায্যে দুর্গম এলাকায় সহজেই পৌঁছে দেওয়া যায়। লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের মতো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এই কামান মোতায়েন করা ভারতীয় সেনার জন্য একটি বড় সুবিধা। ১৫৫ মিমি ক্যালিবারের এই হাউইৎজ়ার ২৪ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল গোলাবর্ষণ করতে সক্ষম।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত ২০১৭ সালে ১৪৫টি এম-৭৭৭ কামান কেনার জন্য আমেরিকার সঙ্গে বড় চুক্তি করেছিল। তারও আগে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নতুন হাউইৎজ়ার কেনা হয়নি। একইভাবে, অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সংগ্রহের মাধ্যমে ভারত ধীরে ধীরে পুরনো সোভিয়েত যুগের এমআই-৩৫ হেলিকপ্টারগুলিকে প্রতিস্থাপন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সহায়তা প্যাকেজ শুধু অস্ত্র ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণেই সাহায্য করবে না, বরং ভারতীয় সেনার দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ প্রস্তুতি ও আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?