ভয়ের ছায়ায় মেয়েদের হস্টেলজীবন: সমাজ, স্মৃতি ও মনস্তত্ত্বের অনুরণন

ভয়ের ছায়ায় মেয়েদের হস্টেলজীবন! কলেজের নতুন সেমিস্টার শুরু। শহর পাল্টেছে, চেনা মুখও নেই। আর যাঁরা প্রথমবার বাড়ি ছেড়ে উঠেছেন মেয়েদের হস্টেলে, তাঁদের জন্য এ যেন এক অচেনা দুনিয়ার শুরু। চারপাশে…

June 27, 2025
1 min read

ভয়ের ছায়ায় মেয়েদের হস্টেলজীবন!

কলেজের নতুন সেমিস্টার শুরু। শহর পাল্টেছে, চেনা মুখও নেই। আর যাঁরা প্রথমবার বাড়ি ছেড়ে উঠেছেন মেয়েদের হস্টেলে, তাঁদের জন্য এ যেন এক অচেনা দুনিয়ার শুরু। চারপাশে একই বয়সি অনেক মেয়ে, কিন্তু প্রত্যেকের বুকের ভিতর জমে আছে এক অদৃশ্য ভয়—কখনও অতিপ্রাকৃত, কখনও বাস্তব জীবনের হুমকি। হিন্দি ওয়েব সিরিজ় ‘খওফ’ ঠিক এই ভয়গুলিকে দৃশ্যমান করে তোলে, যেখানে হস্টেল আর তার ছায়াময় করিডর হয়ে ওঠে ভয়ের কাহিনির পটভূমি। কিন্তু বাস্তবের হস্টেলজীবনও কি কল্পনার মতোই ভয়ের? অভিজ্ঞ মেয়েরা কী বলেন? আর মনোবিদেরা কী বিশ্লেষণ করেন এই আতঙ্কের প্রেক্ষাপট নিয়ে?

মেয়েদের হস্টেলজীবনের ‘খওফ’ শুধু পর্দায় নয়

ছোট শহরের মেয়ে মধুর চরিত্র দিয়ে শুরু ‘খওফ’। কলেজে গণধর্ষণের শিকার হওয়ার স্মৃতি আর নতুন হস্টেলের রহস্যময় ঘর একসঙ্গে মিশে এক অন্তর্গত ভয়ের জাল বুনে দেয়। বাস্তবেও এমন বহু ঘটনা ঘটে, যেখানে মেয়ে হস্টেলবাসীদের নিরাপত্তা, একাকীত্ব, এবং মানসিক যন্ত্রণা হয়ে ওঠে প্রতিদিনকার সঙ্গী।

রেহানা আখতার যেমন জানান, কলকাতার পুরনো হস্টেলের অন্ধকার করিডর, বাথরুমে যাওয়ার পথে নিঃশব্দ গা ছমছমে পরিবেশ যেন নিরবধি তাড়া করে ফিরত তাঁকে। যদিও কোনো ভৌতিক গুজব ছিল না, তবুও সেই অজানা ভয়—“আননোন ফিয়ার”—ছিল সর্বক্ষণ। অন্যদিকে, হস্টেল থেকে বেরনোর অনুমতির জন্য কর্তৃপক্ষের রূঢ়তা, অথবা দেরি হলে অপমানের ভয়, এইসবও তাঁকে ভিতরে ভিতরে গুটিয়ে ফেলত।

সাহিত্যে-চলচ্চিত্রে যেরকম ভয়, বাস্তবে তা আরও অনেক জটিল

অহনা বিশ্বাস, যিনি বিশ্বভারতীর হস্টেলজীবন কাটিয়ে এসেছেন, বলেন—“ভূতের ভয় নয়, ভয় ছিল ‘খারাপ লোক’দের নিয়ে।” অন্ধকার বাথরুমে উঁকি মারা, ঢিল ছোড়া, এমনকি ব্যাঙ ছুড়ে দেওয়ার ঘটনাও তাঁকে আতঙ্কিত করেছে। সেই ভয়ের চরিত্র বাস্তব, এবং তা গেঁথে থাকে চেতনার গভীরে।

শাঁওলি দেবনাথের গল্পেও উঠে আসে নিঃসঙ্গতা এবং অন্ধকারের ভয়। প্রথম হস্টেল-সহবাসিণী সম্পূর্ণ অচেনা, অন্ধকারে রান্নাঘর কিংবা টয়লেট যাওয়ার ভয়—এই সমস্ত মিলিয়ে হস্টেলজীবন যেন হয়ে উঠেছিল এক নিঃশব্দ লড়াই।

মনোবিদের বিশ্লেষণ: ভয় মানেই অলীক নয়

মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপ এই ভয়ের উৎসকে ভাগ করেছেন দু’ভাগে—অতিপ্রাকৃত ভয় এবং বাস্তব জীবনের ভয়। তাঁর মতে, প্রথমটি অনেক সময় কাল্পনিক হলেও দ্বিতীয়টি যথেষ্ট বাস্তব। কেয়ারটেকার যদি পুরুষ হন, বা হস্টেলের আশপাশ নিরাপদ না হয়, তাহলে মেয়েরা আতঙ্কে থাকবেন—এটা খুব স্বাভাবিক।

তবে মোহিত মনে করিয়ে দেন, ভয় থেকে মুক্তি সম্ভব। যুক্তি, সচেতনতা এবং মেয়েদের ঐক্যবদ্ধতা মিলিয়েই এই ভয় কাটিয়ে ওঠা যায়। তাঁর মতে, এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সজাগ সমন্বয়কেই মেয়েদের ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’ বলা যেতে পারে।

ভয় ও সাহসের সহাবস্থান

শেষ কথা হল, ভয় যেমন বাস্তব, তেমনই সাহসও। মধুর মতো বহু মেয়েই নিজেদের ট্রমা আর চারপাশের ভয়কে জয় করে জীবনের পথে এগিয়ে চলেছেন। আর সেই ভয়কে কেন্দ্র করেই সাহিত্য, সিনেমা, ও সমাজের আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে মেয়েদের হস্টেলজীবন। শুধু ভূতের গল্প নয়, এই গল্প আসলে এক অন্তর্লীন সাহসের ইতিহাস।

স্মৃতি ধরে রাখার জাদু: মস্তিষ্কে অ্যাসিটোকোলিন সচল রাখতে রোজকার অভ্যেসে আনুন এই পাঁচ পরিবর্তন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *