অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পথ বদলালেন শাহ!
সাত বছর আগে কলকাতার রাস্তায় তাঁর রোড শো ঘিরে যে উত্তেজনা ও অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল, তা অনেকেরই মনে এখনও তাজা। তাই এ বার যখন আবারও জনসমাবেশের মাঝে নামলেন অমিত শাহ, তখন আশঙ্কা ছিল—ইতিহাস কি আবারও ফিরে আসবে? কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, দৃশ্যটা একেবারেই আলাদা।
ভবানীপুরে রোড শো শুরু হয়েছিল যথেষ্ট জাঁকজমক আর উৎসাহের মধ্যে দিয়ে। হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সামনে-পিছনে মানুষের ঢল, ছাদ-ব্যালকনি থেকে হাত নাড়ছেন অনেকে—সব মিলিয়ে একেবারে উৎসবের আবহ। তবে এই ভিড়ই এক সময় চাপে পরিণত হচ্ছিল। বারবার মাইক হাতে নিয়ে দলের নেতাদের বলতে হচ্ছিল, ভিড় সরিয়ে পথ তৈরি করতে, না হলে রোড শো এগোনোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই উত্তেজনার মাঝেই পরিস্থিতি একটু একটু করে গরম হতে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার কাছে। রাস্তার একদিকে বিজেপি সমর্থক, অন্যদিকে তৃণমূল কর্মীদের পাল্টা জমায়েত—স্লোগান, উত্তেজনা, এবং মাঝে পুলিশ ব্যারিকেড। পরিস্থিতি যে কোনও সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারত।
ঠিক এই জায়গাতেই দেখা গেল শাহের কৌশলগত পরিবর্তন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই তিনি হয়তো সিদ্ধান্ত নিলেন, ঝুঁকি না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলি থেকে কিছুটা দূরেই তিনি ট্রাক থেকে নেমে গাড়িতে উঠে পড়েন। বাকি পথ তিনি গাড়িতেই অতিক্রম করেন।
এই ছোট্ট সিদ্ধান্তটাই বড় বার্তা দিয়ে গেল—রাজনীতিতে কখন এগোতে হয়, আর কখন থামতে হয়, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিনি চাইলে ট্রাকে করেই এগোতে পারতেন। নিরাপত্তা ছিল, জনসমর্থনও কম ছিল না। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারত, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
২০১৯ সালের কলেজ স্ট্রিটের ঘটনাটা এখানেই মনে পড়ে যায়। তখনও রোড শো চলাকালীন উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে সংঘর্ষে গড়ায়। বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। সেই ঘটনার প্রভাব নির্বাচনের ফলেও পড়েছিল বলে অনেকেই মনে করেন।
তাই এ বার যেন একেবারে অন্য ছবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপি শুধু সংগঠনগত দিক থেকেই নয়, কৌশলগত ভাবনাতেও অনেকটা বদল এনেছে। অতিরিক্ত আগ্রাসনের বদলে সংযমের পথ বেছে নেওয়া—এই পরিবর্তনই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শুধু শাহ নন, গোটা দলই যেন আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে। অযথা উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার বদলে পরিস্থিতি সামলে নেওয়াই এখন লক্ষ্য। ভবানীপুরের এই রোড শো তাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এক ধরনের বার্তা—অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয় পরিণত সিদ্ধান্ত।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, রাজনীতির ময়দানে শুধু শক্তি নয়, সময়মতো সংযম দেখানোর ক্ষমতাই অনেক সময় বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না