ভবানীপুরে বুথভিত্তিক ফলাফলে চমক!
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বুথভিত্তিক ভোটের হিসাব ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড় উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৬৭টি বুথের মধ্যে ২০৭টিতেই পিছিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বুথে গড়ে ৪০০ থেকে ৭০০ ভোটার থাকা সত্ত্বেও বহু জায়গায় তাঁর প্রাপ্ত ভোট আশ্চর্যজনকভাবে কম, এমনকি কিছু বুথে তা ৩০–৪০ ভোটের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থেকেছে।
ভবানীপুর, যা একসময় তাঁর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এবার ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, একাধিক বুথে মমতা ৫০ ভোটেরও কম পেয়েছেন। ২২৭ নম্বর বুথে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১২টি ভোট—যা সবচেয়ে কমগুলির মধ্যে একটি। এছাড়া ১৭৬ নম্বর বুথে ২৯, ২৪৯ নম্বর বুথে ২৮ এবং ১০৫ নম্বর বুথে ৩১টি ভোট পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে অন্তত ২৮টি বুথে তাঁর ভোট সংখ্যা ৫০ বা তার নিচে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে কিছু বুথে তুলনামূলক ভালো ফলও দেখা গেছে। যেমন ১২ নম্বর বুথে তিনি ৫৭০টি ভোট পান, যা স্থানীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। তবে এমন ইতিবাচক ফলের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলেই কমিশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রেও ছবি একরকম একতরফা নয়। তিনিও ৩৯টি বুথে ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে তিনি ২০৭টি বুথে লিড ধরে রেখেছেন, যেখানে মমতা এগিয়ে ছিলেন মাত্র ৬০টি বুথে। এই বুথভিত্তিক ব্যবধানই পুরো ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২ ভোট, আর শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৯১৭ ভোট। অর্থাৎ, জয়-পরাজয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৫,১০৫ ভোট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ভবানীপুরে মমতা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তখন তিনি ৮৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে একই কেন্দ্রে বুথভিত্তিক সমর্থনের এই পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শহুরে ভোটারদের মনোভাব বদল, স্থানীয় ইস্যু এবং ভোটার আচরণের পরিবর্তন এই ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই নিজেদের মতো করে এই ফল বিশ্লেষণ করছে।
সব মিলিয়ে ভবানীপুরের এই বুথভিত্তিক ফল শুধু একটি নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়, বরং রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা