পঞ্চকুলা-কাণ্ডে হতবাক বাড়িওয়ালা !
পঞ্চকুলার সেক্টর ৪৫-এর রাতটা যেন আতঙ্কের দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গেল হর্ষিত রানার স্মৃতিতে। সোমবার রাতের বিভীষিকার কথা বলার সময়ও কাঁপছেন তিনি। গাড়ির ভিতর অচেতন সাত জন মানুষ— যার মধ্যে ছয় জন তখন নিথর, আর একজন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার কেন্দ্রে হরিয়ানার মিত্তল পরিবার। মাসখানেক আগেই সেক্টর ৪৫-এর এক বাড়িতে ভাড়া উঠেছিলেন তাঁরা। বাড়িওয়ালা মণীশ চৌধরি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, যে পরিবার এত শান্ত, এত নির্ঝঞ্ঝাট— তারা এমন ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন!
“সকালেও হাসিখুশি ছিল ওরা, রাতে খবর এল মৃত্যু!”
মণীশের কথায়, সোমবার সকালেই দেখা হয়েছিল প্রবীণ মিত্তলদের সঙ্গে। তাঁরা জানিয়েছিলেন, কয়েক দিনের জন্য ঘুরতে যাচ্ছেন এবং তিন দিন থাকবেন না। এমনকি খাবারের জল ভরে রাখতেও অনুরোধ করেছিলেন।
মণীশ বলেন, “বাচ্চাগুলো প্রতিদিন পার্কে খেলতে যেত, হাসি-আনন্দে ভরে থাকত। কে ভেবেছিল সন্ধ্যা নামার আগেই চিরতরে মুছে যাবে সেই মুখগুলো?”
প্রবীণকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না, তাঁর কাঁধে ছিল ঋণের বিশাল বোঝা। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় অগ্রিম না নিয়েই মণীশ তাঁদের ঘর দিয়েছিলেন— কারণ পরিবারটিকে তাঁর খুবই ভদ্র ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল।
প্রতিবেশীর চোখে ধরা পড়ে বিভীষিকা
রাত তখন প্রায় ১০টা। হর্ষিত রানা খাবার খেয়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির দিকে চোখ পড়তেই তাঁর সন্দেহ হয়। গাড়ির ভেতর তাকিয়ে দেখেন কয়েক জন অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
এক ব্যক্তি তখনও জীবিত ছিলেন। মাথা নিচু করে বসে তিনি বলেন, “আর পাঁচ মিনিটেই মরে যাব। ঋণের বোঝা বইতে পারছি না, কেউ সাহায্য করেনি!”
হর্ষিত ও আশপাশের বাসিন্দারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
মর্মান্তিক স্বীকারোক্তি ও শেষ মুহূর্তের বয়ান
প্রবীণ মিত্তল শেষ মুহূর্তে বলেন, তাঁরা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ‘কথামৃত’ শুনে ফিরছিলেন ৫ নম্বর সেক্টর থেকে। রাতে কোনও হোটেলে জায়গা না পেয়ে গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছিলেন। তবে পরে প্রকাশ পায়, সেটি ছিল আত্মহত্যার পরিকল্পনার অংশ।
গাড়ির ভিতর নিথর হয়ে পড়ে থাকা ছয় জনের মধ্যে ছিলেন প্রবীণের স্ত্রী, বাবা, মা ও সন্তানরাও। তাঁদেরও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রশ্নের মুখে শোকস্তব্ধ প্রতিবেশীরা
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে— এমন ভদ্র, নিরীহ পরিবার কেন এমন করলেন?
আর্থিক চাপে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত? না কি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো যন্ত্রণা?
পঞ্চকুলার সেক্টর ৪৫ এখনও স্তব্ধ। মিত্তল পরিবারের হাসিমুখ এখন শুধুই স্মৃতি।
কবিতা না কি যুদ্ধ? নুসরতের রহস্যঘেরা পোস্টে কি সম্পর্ক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত?