ব্রিটিশদের চাকরি ছেড়ে, ব্রিটিশদেরই বিরুদ্ধে একা বিদ্রোহ— ‘কেসরী ২’-এর শঙ্করনের গল্প গায়ে কাঁটা দেবে!

‘কেসরী ২’-এর শঙ্করনের গল্প গায়ে কাঁটা দেবে! জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড—একটি নাম, যা আজও ভারতের ইতিহাসে রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের নিরস্ত্র নাগরিকদের উপর গুলি চালায় ব্রিটিশ…

April 18, 2025
1 min read

‘কেসরী ২’-এর শঙ্করনের গল্প গায়ে কাঁটা দেবে!

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড—একটি নাম, যা আজও ভারতের ইতিহাসে রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের নিরস্ত্র নাগরিকদের উপর গুলি চালায় ব্রিটিশ সেনারা, ব্রিগেডিয়ার ডায়ারের নির্দেশে। চারদিক জুড়ে শুধু হাহাকার আর লাল রঙের ইতিহাস।

তবে সেই ভয়াল ঘটনার মুখোশ খুলে ধরেছিলেন একজন ভারতীয় আইনজীবী—চেত্তুর শঙ্করন নায়ার। যিনি ব্রিটিশদের দেওয়া সম্মান, পদ, উপাধি, সব কিছু ছুঁড়ে ফেলে সত্যের পথে একাই লড়েছিলেন।

কে ছিলেন চেত্তুর শঙ্করন নায়ার?

১৮৫৭ সালে কেরলে জন্ম শঙ্করনের। পিতা ব্রিটিশ সরকারের অধীনে তহসিলদার। পরিবার ছিল প্রতিষ্ঠিত ও সচ্ছল। ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ মেধাবী শঙ্করন পড়াশোনা শেষ করে আইনজীবী হিসাবে পেশা শুরু করেন মাদ্রাজ হাই কোর্টে। ১৮৮০ সাল থেকে শুরু করে ১৯১৫ পর্যন্ত ছিলেন সরকারি আইনজীবী, পরে স্থায়ী বিচারক। এমনকি ভাইসরয় কাউন্সিলের সদস্যপদ এবং ‘নাইট’ উপাধিও পান তিনি।

ব্রিটিশ চাকরি ছেড়ে প্রতিবাদের পথ

জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনার পর শঙ্করন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন—এই হত্যাকাণ্ড ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। সত্যের খাতিরে তিনি প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে। ভাইসরয় কাউন্সিলের সদস্যপদ ত্যাগ করে দাবি তুললেন, পঞ্জাবের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মাইকেল ও’ডায়ার যেন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেন।

সাহসের চূড়ান্ত পরীক্ষা: ইংল্যান্ডের আদালত

১৯২২ সালে শঙ্করন লেখেন Gandhi and Anarchy—যেখানে তিনি ও’ডায়ারকে সরাসরি দায়ী করেন। ফলস্বরূপ, ও’ডায়ার তাঁর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডে মানহানির মামলা করেন। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সেই মামলা ছিল তৎকালীন ইংরেজ আইনের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম।

১২ জন জুরির মধ্যে ১১ জন শঙ্করনের বিপক্ষে রায় দেন। আদালত তাঁকে দুটি বিকল্প দেয়—ক্ষমা চাওয়া, অথবা জরিমানা দেওয়া। শঙ্করন ক্ষমা চাননি। মাথা উঁচু রেখে জরিমানা দিয়ে বেরিয়ে আসেন আদালত থেকে।

ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু

কম বয়সে নিজের মামাতো বোনকে বিয়ে করেছিলেন শঙ্করন। তাঁদের ছয় সন্তান ছিল। ১৯২৬ সালে তীর্থে যাওয়ার পথে স্ত্রী মারা যান। এরপর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। ১৯৩৪ সালে, ৭৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সিনেমার পর্দায় শঙ্করন

‘কেসরী চ্যাপ্টার ২’-এ চেত্তুর শঙ্করনের চরিত্রে অক্ষয় কুমার। ইতিহাসের এই সাহসী সৈনিকের গল্প বড়পর্দায় দেখে নতুন প্রজন্ম যেন বোঝে—একটা সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানে কী। শঙ্করনের গল্প শুধু ইতিহাস নয়, সাহসিকতার জীবন্ত দলিল।


এই গল্প মনে করিয়ে দেয়—কখনও কখনও একটা একা কণ্ঠই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ।

জয়ী সিংহ ফতেহ্‌সিন! ৮ বছরের অপেক্ষার পর বাবা হলেন জাহির খান, খুশির হাওয়া লখনউ শিবিরে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *