আইপিএল থেকে বিদায় রাজস্থানের!
আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হল রাজস্থান রয়্যালসকে। ১৫ বছরের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী দলের হয়ে অসাধারণ ৯৬ রানের ইনিংস খেললেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। অধিনায়ক শুভমন গিলের দুরন্ত শতরানের সৌজন্যে ২১৫ রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল গুজরাত।
ম্যাচের শুরুটা রাজস্থানের জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। দ্রুত ফিরে যান যশস্বী জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেল। দলের উপর চাপ বাড়তেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বৈভব। সাধারণত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও এ দিন পরিস্থিতি বুঝে অনেক বেশি পরিণত ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় তাঁকে।
মাঝে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রবীন্দ্র জাডেজা। তাতে আরও চাপে পড়ে রাজস্থান। রিয়ান পরাগ, দাসুন শনাকা এবং জফ্রা আর্চারের দ্রুত আউট হওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু বৈভব একপ্রান্ত আগলে রেখে ধীরে ধীরে রান বাড়াতে থাকেন। অর্ধশতরানের পর গিয়ার বদলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি এবং গুজরাতের বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন।
শতরানের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৯৬ রানে থামতে হয় তাঁকে। কাগিসো রাবাডার বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানায়। বৈভবের ইনিংসে ছিল দায়িত্ববোধ, ধৈর্য এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার অসাধারণ উদাহরণ। জাডেজার সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ জুটি রাজস্থানকে ২১৪/৬ রানের লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দেয়।
তবে রান তাড়া করতে নেমে গুজরাত একেবারেই অন্য মেজাজে ছিল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তারা। শুভমন গিল এবং সাই সুদর্শনের জুটি রাজস্থানের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেয়। পাওয়ারপ্লেতেই দ্রুত রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় গুজরাত।
সুদর্শন ৫৮ রান করে আউট হলেও শুভমন থামেননি। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে মাত্র ৫৩ বলে ১০৪ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার এবং ৩টি ছয়। অধিনায়কের এই শতরানই গুজরাতকে ফাইনালের দরজায় পৌঁছে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় গুজরাত। জস বাটলার ও রাহুল তেওতিয়া ম্যাচ শেষ করেন অপরাজিত থেকে। এই জয়ের ফলে তৃতীয়বারের মতো আইপিএল ফাইনালে উঠল গুজরাত।
দিনের শেষে জয় গুজরাতের হলেও ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয় জিতে নিয়েছে বৈভব সূর্যবংশীর সাহসী ইনিংস। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই যে পরিণত মানসিকতা এবং লড়াইয়ের ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, তা ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে বড় আশার খবর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?