বৈভবের ব্যাটে ভবিষ্যতের ডাক, অভিজ্ঞানের লড়াই— বিশ্বমঞ্চে টানা আধিপত্যে ভারত

বৈভবের ব্যাটে ভবিষ্যতের ডাক! বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়দের আলাদা করে চেনা যায়। চাপের মুহূর্তে যাঁরা আলো জ্বালাতে পারেন, ইতিহাস তাঁদেরই মনে রাখে। শুক্রবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ঠিক সেই কাজটাই করে…

February 7, 2026
1 min read

বৈভবের ব্যাটে ভবিষ্যতের ডাক!

বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়দের আলাদা করে চেনা যায়। চাপের মুহূর্তে যাঁরা আলো জ্বালাতে পারেন, ইতিহাস তাঁদেরই মনে রাখে। শুক্রবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ঠিক সেই কাজটাই করে দেখাল বৈভব সূর্যবংশী। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর বিধ্বংসী ইনিংস শুধু ম্যাচ জেতায়নি, বুঝিয়ে দিয়েছে— ভারতের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল।

ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৪১১/৯। জবাবে ইংল্যান্ড থামে ৩১১ রানে। ফলে ১০০ রানের বিশাল ব্যবধানে বিশ্বকাপ ঘরে তোলে ভারত। এই নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের সংখ্যা ছ’বার। আরও বড় ছবি বলছে— পুরুষ, মহিলা ও যুব ক্রিকেট মিলিয়ে মাত্র তিন বছরে ভারতের ঝুলিতে এল পাঁচটি বিশ্বকাপ। বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ধারাবাহিকতা নজিরবিহীন।

হারারেতে ফাইনালের মঞ্চে বৈভবের ব্যাটিং যেন অন্য গ্রহের। ৮০ বলে ১৭৫ রান— ১৫টি চার, ১৫টি ছয়। প্রথম তিন বল ডট যাওয়ায় কেউ কেউ চমকেছিলেন। কিন্তু চতুর্থ বলে চার মেরে খাতা খুলতেই শুরু হয়ে যায় ঝড়। ৩২ বলে অর্ধশতরান, ৫৫ বলে শতরান। পরের পঞ্চাশ এল মাত্র ২২ বলে। গ্রিন, ফারহান, আলবার্ট, মর্গ্যান— কেউই থামাতে পারেননি। নিশ্চিত দ্বিশতরানের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আউট হলেও, আক্ষেপ নয়— ব্যাট উঁচু করে অভিবাদন গ্রহণ করেন বৈভব। গোটা মাঠ উঠে দাঁড়ায়।

তাঁর পাশে সমর্থন দিয়েছেন সতীর্থরাও। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে খেলেছেন দায়িত্বশীল ৫৩ রানের ইনিংস। বেদান্ত ত্রিবেদী (৩২), বাঙালি অভিজ্ঞান কুন্ডু (৩১ বলে ৪০; ৬টি চার, ১টি ছয়) এবং বিহান মলহোত্র (৩০) রান যোগ করে স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন। শেষদিকে কিছু উইকেট পড়লেও ভারত ৪০০ পেরিয়ে যায়— ফাইনালের জন্য আদর্শ পুঁজি।

ইংল্যান্ড তাড়া শুরু করেছিল ধীরে। পরে ডকিন্স (৬৬) ও মায়েস (৪৫) কিছুটা আশা দেখান। কিন্তু রিউ ফিরতেই ভেঙে পড়ে ইনিংস। নয় বলের মধ্যে চার উইকেট— সেখানেই কার্যত শেষ। শেষদিকে সেলেব ফ্যালকনার ৬৭ বলে ১১৫ করে লড়াই চালালেও, চাপ সামলে নেয় ভারতীয় বোলাররা। দীপেশ দেবেন্দ্রন, আরএস অম্বরীশদের আঘাতে প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে যায়।

এই সাফল্য হঠাৎ নয়। এক সময় অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বোর্ড তখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বাড়ায়— অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ও একদিনের সিরিজ়, এশিয়া কাপ জয়, বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ফল? ম্যাচ প্রস্তুতি, দলগত বন্ধন, আর চাপ সামলানোর ক্ষমতা— সবই পরিণত হয়েছে শক্তিতে।

শেষ পর্যন্ত শুক্রবারের রাতটা লিখে দিল ভবিষ্যতের ঠিকানা। বৈভব-অভিজ্ঞানেরা প্রমাণ করল— বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, মানদণ্ড।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *