বৈভবকে বসিয়ে কী পেল ভারত?
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীকে দলে রাখা হলেও প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়নি। সিরিজ় শেষে ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থ হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, তরুণ প্রতিভাকে অপেক্ষা করাতে গিয়ে ভারত নিজেদের দুর্বলতাই আরও স্পষ্ট করে ফেলেছে।
আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন বৈভব। এক মরসুমে ৭৭৬ রান এবং রেকর্ডসংখ্যক ছক্কা মেরে তিনি নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন। তাই প্রশ্ন উঠছে, যখন তাঁকে দলে নেওয়াই হল, তখন অভিষেকের সুযোগ দেওয়া হল না কেন?
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের যুক্তি, আয়ারল্যান্ডের সবুজ উইকেটে সুইং ও বাউন্স বেশি থাকায় এত কম বয়সি ব্যাটারকে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে চায়নি তারা। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারও জানিয়েছেন, বৈভব প্রতিভাবান হলেও দলে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক ভাল খেলছেন। তাই সঠিক সময়েই তাঁর সুযোগ আসবে।
সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতেও একই সুরে বলেন, বৈভব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হলেও সঞ্জু স্যামসনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপরও আস্থা রাখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনেই বৈভবের অভিষেক হবে।
কিন্তু সেই পরিকল্পনার মাঝেই ধাক্কা খেয়েছে ভারতের ব্যাটিং। যাঁদের অভিজ্ঞতার উপর ভরসা করা হয়েছিল, তাঁরাই আয়ারল্যান্ডের সুইং-সহায়ক পরিবেশে ব্যর্থ হন। আইপিএলে বিধ্বংসী ব্যাটিং করা সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা বা অন্য ব্যাটারেরা বিদেশের কন্ডিশনে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি।
এই ব্যর্থতার পর অনেকেই মনে করছেন, বৈভবকে খেলালেও এর চেয়ে খারাপ কিছু হত না। তিনি সফল হতেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতেন। ভবিষ্যতের জন্য সেটাই মূল্যবান হতে পারত।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাওস্করও এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, আয়ারল্যান্ডের মতো সিরিজ়ই ছিল বৈভবকে দেখে নেওয়ার আদর্শ সুযোগ। তিনি মনে করেন, এখন আর দেরি না করে ইংল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচ থেকেই বৈভবকে সুযোগ দেওয়া উচিত।
একই মত প্রাক্তন অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনেরও। তাঁর বক্তব্য, তরুণ ক্রিকেটারদের শুধু বেঞ্চে বসিয়ে রাখলে হবে না। অন্তত মাঠের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভবিষ্যতের তারকাদের তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয় এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকেই।
এখন ভারতের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ ইংল্যান্ড সফর। সেখানে সুইং ও সিমের পরীক্ষা আয়ারল্যান্ডের থেকেও কঠিন হবে। তাই প্রশ্ন একটাই—ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট কি আগের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকবে, নাকি সাম্প্রতিক ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈভব সূর্যবংশীকে অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ দেবে? সেই উত্তরই এখন জানতে অপেক্ষায় ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?