বৃহস্পতির সমান আকার!
মহাকাশে এমন দুই বিশাল গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যাদের আকার প্রায় বৃহস্পতির সমান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় চেহারা হলেও ঘনত্ব এতটাই কম যে তুলো তো বটেই, হাওয়াই মিঠাইয়ের থেকেও হালকা বলা যায়। বিরল এই ধরনের গ্রহকে বিজ্ঞানীরা ‘সুপার পাফ’ নামে চিহ্নিত করেন।
মহাবিশ্বে এই ধরনের গ্রহের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এখনও পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি নক্ষত্রমণ্ডলে এমন গ্রহের সন্ধান মিলেছে। নতুন আবিষ্কৃত দুটি গ্রহের নাম রাখা হয়েছে টিওআই-৭৯১ বি এবং টিওআই-৭৯১ সি। দু’টিরই ব্যাস বৃহস্পতির কাছাকাছি হলেও ভর আশ্চর্যজনকভাবে কম।
পৃথিবীর গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনসেন্টিমিটারে প্রায় ৫.৫১ গ্রাম। সেখানে টিওআই-৭৯১ বি-এর ঘনত্ব মাত্র ০.০৩৮ গ্রাম এবং টিওআই-৭৯১ সি-এর ০.০৪৭ গ্রাম প্রতি ঘনসেন্টিমিটার। তুলোর ঘনত্ব যেখানে প্রায় ১.৫ গ্রাম প্রতি ঘনসেন্টিমিটার, সেখানে এই দুই গ্রহ আরও অনেক বেশি হালকা। এমনকি হাওয়াই মিঠাইয়ের গড় ঘনত্বও প্রায় ০.০৫ গ্রাম প্রতি ঘনসেন্টিমিটার, অর্থাৎ সেটির থেকেও কম ঘনত্ব এই গ্রহগুলির।
এই যুগান্তকারী গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন ইউনিভার্সিটি কোৎ দা’জুর এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে Monthly Notices of the Royal Astronomical Society-এ।
দুটি গ্রহই পৃথিবী থেকে প্রায় ১,১১০ আলোকবর্ষ দূরে ভোলান্স নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত একটি বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তন করছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, একই গ্যাসীয় ডিস্ক থেকে এদের জন্ম। মজার বিষয়, এরা ৫:৩ অনুপাতে নিজেদের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে। অর্থাৎ, ভেতরের গ্রহটি পাঁচ বার ঘুরে আসার মধ্যে বাইরের গ্রহটি তিন বার প্রদক্ষিণ সম্পূর্ণ করে।
গবেষকদলের প্রধান অধ্যাপক জর্জ ড্রান্সফিল্ডের মতে, একই নক্ষত্রমণ্ডলে দুটি ‘সুপার পাফ’ গ্রহের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল। এত কম ঘনত্বের গ্রহ কীভাবে তৈরি হয় এবং কীভাবে সময়ের সঙ্গে তাদের বিবর্তন ঘটে, তা বোঝার জন্য এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এই দুই গ্রহ প্রথম নজরে আসে কয়েক বছর আগেই। ২০১৯ সালে টিওআই-৭৯১ বি এবং ২০২৩ সালে টিওআই-৭৯১ সি-কে সম্ভাব্য গ্রহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এগুলি সত্যিই বিরল ‘সুপার পাফ’ গ্রহ।
বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা, এই গ্রহগুলির বিশাল বায়ুমণ্ডল মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসে ভরা। সম্ভবত মোট ভরের বড় অংশই রয়েছে এই গ্যাসীয় আবরণে। তাই এদের আকার বিশাল হলেও ঘনত্ব অত্যন্ত কম। গবেষকদের আশা, এই গ্রহগুলিকে ঘিরে ভবিষ্যতের গবেষণা শুধু এই বিরল গ্রহগুলির উৎপত্তিই নয়, বরং গ্রহ গঠনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কেও নতুন তথ্য তুলে ধরবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?