বৃহস্পতিবার চিন্ময়কৃষ্ণের মামলা
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের হয়ে মামলা লড়ছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ। কিন্তু তার আগেই ব্যক্তিগত অস্বস্তি এসে হাজির হয়েছে। গত মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন রবীন্দ্র ঘোষ, যিনি বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি এখন আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ, তবে কিছুটা বুকে চিনচিনে ব্যথা এখনও অনুভব করছেন। ডাক্তারের পরামর্শে তার শারীরিক পরীক্ষা চলছে। বুধবার সকালেও চিকিৎসকেরা তাকে দেখে গিয়েছেন এবং আরও কয়েকটি পরীক্ষা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রবীন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মামলা নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে রয়েছেন। চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার জামিনের আবেদন চট্টগ্রামের আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এর পর থেকে, চিন্ময়কৃষ্ণ তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না পাওয়ার সমস্যায় পড়েছিলেন, কিন্তু রবীন্দ্র ঘোষ তার পক্ষে লড়াই করতে এগিয়ে আসেন। তিনি নিজেই তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন।
তবে, এই মুহূর্তে রবীন্দ্র ঘোষের দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তার দেশে ফেরার কথা ছিল বুধবার, ১ জানুয়ারি, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার এই পরিকল্পনায় ভাটা পড়েছে। বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের মামলার শুনানি রয়েছে এবং তার আগে রবীন্দ্রের দেশে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা এবং অসুস্থতার কারণে এই বিষয়টি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রবীন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, “মামলা নিয়ে চিন্তায় আছি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশে ফিরতে পারব কি না, তা নিশ্চিত নই। তবে চিন্ময়কৃষ্ণের জন্য আমি ২০ জন আইনজীবী নিয়োগ করেছি, যারা তার পক্ষে কাজ করছেন।” তার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, তিনি নিজের অসুস্থতার মধ্যেও চিন্ময়কৃষ্ণের মামলার বিষয়ে যতটা সম্ভব সঠিক পদক্ষেপ নিতে চান।
হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে রবীন্দ্রের শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট জটিল। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রস্রাবের সমস্যা এবং পুরনো অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে, যা তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল করে তুলেছে। তবে চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং এরই মধ্যে তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী হিসেবে রবীন্দ্র ঘোষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের আচরণ এবং তাদের অধিকার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। তার অসুস্থতা এবং চট্টগ্রামের আদালতের শুনানি উপলক্ষে দেশের মধ্যে তার ফেরার কথা থাকলেও, শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় বর্তমানে সেই বিষয়টি কিছুটা অনিশ্চিত।
এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর রবীন্দ্র ঘোষের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন তার সহকর্মী এবং চিন্ময়কৃষ্ণের পরিবারের সদস্যরা। আশা করা হচ্ছে, তিনি শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং তার পেশাদার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।