বিহারের কৃষিতে নতুন সোনালি অধ্যায়: ঔরঙ্গাবাদ, অরওয়াল ও বেগুসরাইয়ে পাট চাষে ফের আশার আলো

বিহারের কৃষিতে নতুন সোনালি অধ্যায়! বিহারের কৃষিক্ষেত্রে এক সময় হারিয়ে যেতে বসা পাট চাষ আবারও নতুন জীবন পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে যখন প্লাস্টিক বর্জন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে, ঠিক তখনই…

July 17, 2025
1 min read

বিহারের কৃষিতে নতুন সোনালি অধ্যায়!

বিহারের কৃষিক্ষেত্রে এক সময় হারিয়ে যেতে বসা পাট চাষ আবারও নতুন জীবন পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে যখন প্লাস্টিক বর্জন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে, ঠিক তখনই বিহারের তিনটি জেলায়— ঔরঙ্গাবাদ, অরওয়াল এবং বেগুসরাই— পাট চাষকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এক সময় যা ছিল বাংলার গর্ব, সেই ‘সোনালি আঁশ’ আবারও কৃষকদের জীবিকার প্রধান ভরসা হয়ে উঠছে।

পাটের এই নবজাগরণের পেছনে রয়েছে ‘ন্যাশনাল জুট বোর্ড’-এর (এনজেবি) ‘জুট আইকেয়ার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত মানের বীজ এবং বিশেষ রাসায়নিক সহায়তা সরবরাহ করে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ‘মেসার্স খলিহান’-এর সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি বিহারে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আগে যেখানে জমি বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে পতিত পড়ে থাকত, এখন সেই জমিগুলিতে পাট চাষ হচ্ছে। শুধু আর্থিক দিক থেকে নয়, পাট চাষের মাধ্যমে পরিবেশেরও উপকার হচ্ছে। কারণ, পাট পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন জৈব পদার্থ মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং এটি সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব।

এখন পর্যন্ত এই তিন জেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে:

  • প্রায় ১৬২৪ জন কৃষক এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন।
  • ৪০৭ হেক্টর জমিতে নতুন করে পাট চাষ শুরু হয়েছে।
  • কৃষকদের মধ্যে ১৩ কুইন্টাল উচ্চ ফলনশীল (HYV) বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
  • পাট পচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রেটিং অ্যাক্সেলরেটর’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের সুবিধার্থে গ্রামের পর গ্রামে গিয়ে সচেতনতা শিবির এবং মাঠে প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের কৃষকরাও পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। শুধু পুরনো পদ্ধতিতে চাষ নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

এই উদ্যোগের ফলে ঔরঙ্গাবাদ, অরওয়াল এবং বেগুসরাইয়ের অনেক কৃষক এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আগের তুলনায় আয়ের নতুন পথ খুলে যাওয়ায় তাঁদের আর্থিক অবস্থাও ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।

‘ন্যাশনাল জুট বোর্ড’-এর সচিব শশী ভূষণ সিংহ জানিয়েছেন, “পাট চাষকে আবারও জনপ্রিয় করে তুলতে আমরা প্রতিটি স্তরে কাজ করছি। বিহারের কৃষকদের সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এটি সম্ভব হয়েছে।”

রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তরও আশা প্রকাশ করেছে, এই ধরনের উদ্যোগ রাজ্যের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে কৃষকের আয় বৃদ্ধি— দুই ক্ষেত্রেই পাট চাষ এখন এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে বিহারকে।

ভারতের নিজস্ব এআই-স্মার্টফোন ‘NxtQuantum OS’ উন্মোচন – স্বনির্ভরতা ও গোপনীয়তার প্রতিশ্রুত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *