যৌথ সংসারের আড়ালে লুকোনো ৩৭ লক্ষ টাকার গোপন সত্য!
বিয়ের পর থেকে সংসারটা ছিল দু’জনের যৌথ সিদ্ধান্তে গড়া। স্বামী কাজ করবেন, স্ত্রী ঘর সামলাবেন— এমনটাই ঠিক হয়েছিল। সেই বিশ্বাসের উপর ভর করেই নিজের চাকরি ছেড়েছিলেন নোভা (নাম পরিবর্তিত)। স্বামীর সঙ্গে যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিনি নিজের জমানো সব টাকা তুলে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, সংসারটা নিরাপদ হাতেই রয়েছে। কিন্তু সন্তানের জন্মের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেঙে পড়ে সেই বিশ্বাসের ভিত।
৩২ বছরের নোভা সদ্য মা হয়েছেন। শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ— সব মিলিয়ে এমন এক সময়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী বছরের পর বছর ধরে নিজের আসল আয় গোপন করে এসেছেন। শুধু তাই নয়, নোভার অজান্তেই একটি আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমিয়ে রেখেছেন বিপুল টাকা। এই সত্যিটা সামনে আসতেই নোভার মনে হয়, পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে।
বিয়ের আগে নোভা নিজে চাকরি করতেন। স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন— এক জন উপার্জন করবেন, অন্য জন সংসার আর ভবিষ্যতের সন্তানকে সামলাবেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নোভা চাকরি ছেড়েছিলেন। স্বামী তাঁকে জানাতেন, কর কাটার পর তাঁর মাসিক হাতে পাওয়া আয় প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার সমান। সেই আয়ের উপর ভরসা করেই চলছিল সংসার।
সমস্যার সূত্রপাত হয় একেবারে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে। সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে একটি ফোনালাপে এক আধিকারিক ভুলবশত নোভার স্বামীর বেতনের অঙ্ক অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন। তখনই নোভার মনে প্রথম সন্দেহ জাগে। শুরুতে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলেও, অস্বস্তি আর দমিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত স্বামীর ব্যাঙ্ক নথি খুঁজে দেখেন।
যা দেখেন, তা তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। নোভা জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর আসল মাসিক বেতন প্রায় ৮,৫০০ ডলার— অর্থাৎ প্রায় সাত লক্ষ টাকারও বেশি। শুধু তা-ই নয়, সেই টাকার একটি বড় অংশ তিনি নিয়মিত একটি গোপন অ্যাকাউন্টে জমা করছিলেন। সেখানে ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে ৪৫ হাজার ডলারের বেশি— ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা।
নোভার আরও কষ্ট হয় এই ভেবে যে, স্বামী বরাবরই নিজেকে অত্যন্ত কিপটে বলে পরিচয় দিতেন। সংসারের খরচে টানাটানি, ছোটখাটো প্রয়োজনেও অনীহা— সবই যেন ছিল পরিকল্পনার অংশ। অথচ নোভা নিজের সমস্ত সঞ্চয় নিঃসংকোচে যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা করতেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন এই সম্পর্কের ভিত শক্ত।
এই ঘটনার সময় নোভা চার সপ্তাহের একটি শিশুকে নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন। অর্থনৈতিক ভাবে পুরোপুরি স্বামীর উপর নির্ভরশীল অবস্থায় এই বিশ্বাসভঙ্গ তাঁর মানসিক নিরাপত্তাকে ভেঙে দেয়। তিনি প্রকাশ্যে লেখেন, কোনও সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসের উপর। সেই বিশ্বাস এক বার ভেঙে গেলে সব কিছুই এলোমেলো হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত নোভা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেন। স্বামীর আপত্তি সত্ত্বেও আবার চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি আর কখনও নিজের আর্থিক নিরাপত্তা অন্যের হাতে তুলে দেব না।” এই অভিজ্ঞতা নোভার জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে তাঁকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তিও দিয়েছে।