বিশ্বকাপ জিততে হলে হাতও ময়লা করতে হবে!
বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে কঠিন লড়াইয়ের পর প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি পেনাল্টি থেকে করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তবে ম্যাচের পর তাঁর মন্তব্য এবং আচরণ— দু’টিই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্যারাগুয়ে গোটা ম্যাচ জুড়েই রক্ষণাত্মক কৌশলে ফ্রান্সকে আটকে রাখার চেষ্টা করে। আট জন ফুটবলার প্রায় সারাক্ষণ নিজেদের বক্সের আশপাশে থেকে এমবাপে-দেম্বেলেদের জায়গা করে দেননি। দীর্ঘ ৭০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অবশেষে একটি পেনাল্টি থেকেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
জয়ের পর এমবাপে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিশ্বকাপ জিততে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হবে না।
ফ্রান্স অধিনায়ক বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা হাতও ময়লা করব। অনেকে ভাবে ফ্রান্স শুধু সুন্দর পাসিং ফুটবল খেলতে জানে। কিন্তু দরকার হলে আমরা কঠিন, শারীরিক এবং লড়াকু ফুটবলও খেলতে পারি। আজ আমরা সেটাই করেছি এবং সেই লড়াইয়েও ওদের হারিয়েছি।”
তাঁর মতে, ফুটবলে কোনও নির্দিষ্ট আদর্শ পদ্ধতি নেই। শেষ পর্যন্ত জয়ই আসল লক্ষ্য।
এমবাপে বলেন, “প্যারাগুয়ে নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলেছে। ওদের পরিকল্পনাকে সম্মান করি। ফুটবলে সঠিক বা ভুল খেলার ধরন বলে কিছু নেই। একটাই লক্ষ্য— ম্যাচ জেতা। ওরা যেভাবে আমাদের হারাতে চেয়েছিল, আমরা সেই লড়াইয়েই ওদের হারিয়েছি।”
ম্যাচ চলাকালীন প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের শারীরিক চ্যালেঞ্জে বারবার বিরক্ত হতে দেখা যায় এমবাপেকে। এমনকি সাধারণত শান্ত স্বভাবের ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশঁকেও সাইডলাইনে উত্তেজিত হয়ে উঠতে দেখা যায়।
এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে মরক্কো। সেখানে এমবাপের মুখোমুখি হবেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রাক্তন ক্লাব-সতীর্থ আশরফ হাকিমি।
মরক্কোকে নিয়ে এমবাপে বলেন, “হাকিমি আমাকে ইতিমধ্যেই বার্তা পাঠিয়েছে। এখনও দেখা হয়নি। মরক্কো দারুণ দল। ওদের বিরুদ্ধে খেলতে মুখিয়ে আছি। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব। নিজেদের সেরাটা দিয়ে বিশ্বকাপে আরও এগিয়ে যেতে চাই।”
তবে ম্যাচ শেষে একটি ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছে। জয় উদ্যাপনের সময় প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল সৌজন্য বিনিময়ের জন্য এগিয়ে এলেও এমবাপে তাঁর দিকে তাকাননি। এতে বিরক্ত হয়ে গিল হাতে থাকা বলটি এমবাপের পিঠের দিকে ছুড়ে মারেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এমবাপের আচরণকে অখেলোয়াড়সুলভ বলছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, ম্যাচের উত্তেজনার আবহেই ঘটনাটি ঘটেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?