বিশ্বকাপে না থেকেও পুরো পারিশ্রমিক পাবেন সোমালিয়ার রেফারি!
বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন দেখেছিলেন বহু বছর ধরে। সেই স্বপ্ন পূরণের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল সোমালিয়ার রেফারি ওমার আর্টানকে। তবে মাঠে নামতে না পারলেও তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ পারিশ্রমিকই পাবেন তিনি।
আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত ওমার আর্টানকে এবারের বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত করেছিল ফিফা। এটি তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলির একটি ছিল। কিন্তু আমেরিকার অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় যে তিনি দেশে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বাধ্য হয়ে সোমালিয়ায় ফিরে যেতে হয় তাঁকে।
পরে মার্কিন প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, ওমারের সঙ্গে সোমালিয়ার কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য যোগাযোগের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ওমার। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সব নথি এবং বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ওমার পরে বলেন, “আমি একজন পেশাদার রেফারি। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনা করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। আমি সব নিয়ম মেনেই আমেরিকায় গিয়েছিলাম।”
এই ঘটনার পর ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, ওমারের ব্যক্তিগত কোনও ভুল না থাকা সত্ত্বেও তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। সেই কারণেই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার মতে, একজন নির্বাচিত রেফারি হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু আয়োজক দেশের সিদ্ধান্তের কারণে তিনি কাজ করতে পারেননি। তাই তাঁর আর্থিক ক্ষতি হওয়া উচিত নয়।
ফিফার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সংস্থাটি জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ শেষে ওমার তাঁর চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক পাবেন। এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাঁর পেশাদারিত্ব ও অবদানের প্রতি সম্মানও।
দেশে ফেরার পর অবশ্য ওমারকে হতাশার মধ্যে ডুবে থাকতে হয়নি। সোমালিয়ায় তাঁকে বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একটি স্টেডিয়ামে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করে সরকার। বহু মানুষ তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এই ঘটনা ফিফাকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্বীকার করেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে আয়োজক দেশের অভিবাসন নীতিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা ফিফার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারলেও ওমার আর্টানের গল্প এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আর ফিফার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল, কখনও কখনও মাঠের বাইরের লড়াইটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?