বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় ২৪৫ কোটি টাকার কারাগার!!
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে আমেরিকার প্রশাসন। সেই লক্ষ্যেই কানসাস সিটিতে প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হচ্ছে একটি অস্থায়ী কারাগার। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মুখে নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে।
আগামী কয়েক সপ্তাহে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ফুটবল সমর্থক কানসাস সিটিতে ভিড় জমাবেন। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কিছু সমর্থকের হিংসাত্মক আচরণ ও বিশৃঙ্খলার নজির রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিশ্বকাপ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
এই প্রকল্পের আওতায় ১০০ শয্যার একটি অস্থায়ী কারাগার তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালের পর থেকে কানসাস সিটির নিজস্ব কোনও কারাগার নেই। ফলে কাউকে গ্রেফতার করা হলে প্রথমে থানায় রাখা হয় এবং পরে প্রয়োজন হলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের অন্য কাউন্টির জেলে পাঠানো হয়। বিশ্বকাপের সময় সেই ব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
এই কারণেই ফ্রন্ট স্ট্রিট এলাকায় নতুন কারাগার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ চলায় শ্রমিক ও কর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। তার ফলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের আশা, ১৬ জুন কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগেই কাজ অনেকটাই এগিয়ে নেওয়া যাবে। ওই দিন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কথা আলজেরিয়ার। তবে এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে প্রতিযোগিতা চলাকালীন পুরো কারাগারটি চালু করা সম্ভব হবে কি না।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের সমর্থকদের নিয়ে বিশেষ সতর্ক রয়েছে আয়োজকেরা। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিপুল উপস্থিতি যেমন প্রশাসনের নজরে রয়েছে, তেমনই ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণ নিয়েও আলাদা উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে ম্যাচের ফল নিয়ে কিছু সমর্থকের অশান্তি সৃষ্টি করার ঘটনা ঘটেছে। তাই কোনও রকম বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, আইন ভাঙলে বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য হেফাজতে রাখা হতে পারে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরেও এই কারাগার পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে না। ছোট আকারে হলেও এটি ভবিষ্যতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা হবে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কানসাস সিটির এই উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ও আয়োজন— দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?