বিমার কমিশনে বড় কাটছাঁটের প্রস্তাব, কমতে পারে প্রিমিয়াম?
বিমার খরচ কমানো এবং গ্রাহকদের জন্য পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে ইনশিয়োরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা আইআরডিএআই। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া প্রস্তাবে বিভিন্ন ধরনের বিমায় এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশনের সীমা নতুন করে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য বিমা বিক্রির খরচ কমানো। আইআরডিএআইয়ের মতে, সব বিমা বিক্রিতে এজেন্ট বা ডিস্ট্রিবিউটরের পরিশ্রম এক রকম নয়। বাধ্যতামূলক বা তুলনামূলক সহজ কোনও বিমার ক্ষেত্রে গ্রাহককে রাজি করানোর জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম প্রয়োজন, জটিল দীর্ঘমেয়াদি বিমার ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি হতে পারে। তাই সব পণ্যের জন্য একই কমিশন কাঠামোর বদলে পণ্য, বিক্রির মাধ্যম এবং প্রয়োজনীয় পরিশ্রম অনুযায়ী আলাদা সীমা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জীবন বিমায় কী বদল হতে পারে?
১০ বছর বা তার বেশি মেয়াদের ব্যক্তিগত জীবন বিমায় প্রথম বছরের কমিশন ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত এজেন্টের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। ছয় থেকে আট বছরের প্রিমিয়াম-পেমেন্ট মেয়াদে সেই সীমা যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ১৭.৫ শতাংশ হতে পারে।
এ ছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি জীবন বিমায় প্রথম বছরেই বড় অঙ্কের কমিশন দেওয়ার বদলে তা ধাপে ধাপে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে আইআরডিএআই। এর উদ্দেশ্য, শুধু বেশি কমিশনের আশায় পলিসি বিক্রির প্রবণতা কমানো এবং পলিসি চালু রাখার ক্ষেত্রে এজেন্টের দায়িত্ব বাড়ানো।
স্বাস্থ্য বিমাতেও কমিশন কমানোর প্রস্তাব
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমায় প্রথম বছরের জন্য ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার কমিশন ১৫ শতাংশ এবং এজেন্টের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। পলিসি পুনর্নবীকরণ বা পোর্ট করার ক্ষেত্রে এই সীমা যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ হতে পারে।
বর্তমান ব্যবস্থায় বিমা বিক্রির কমিশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, কমিশনের কাঠামো নতুন করে সাজানো হলে বিতরণ খরচ কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে কমিশন কমলেই সেই একই হারে গ্রাহকের প্রিমিয়াম কমবে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই।
গাড়ি বিমায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
মোটর বিমার ক্ষেত্রেও কমিশন কাঠামোয় বড় কাটছাঁটের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন গাড়ির বাধ্যতামূলক থার্ড-পার্টি বিমায় ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার কমিশন শূন্য করার প্রস্তাব দিয়েছে আইআরডিএআই। এজেন্ট বা অ্যাসোসিয়েটের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সীমা ২.৫ শতাংশ।
নতুন গাড়ির নিজস্ব ক্ষতি, ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা এবং দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত কভারের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক কম কমিশনের প্রস্তাব রয়েছে।
কেন এই পরিবর্তনের কথা বলছে IRDAI?
আইআরডিএআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৪-২৫ সময়কালে নির্দিষ্ট কর্পোরেট-এজেন্ট চ্যানেলে ডিস্ট্রিবিউটরদের পারিশ্রমিক ১২৫ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে নতুন ব্যবসা থেকে প্রিমিয়াম বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এই ব্যবধান কমানোই প্রস্তাবিত সংস্কারের অন্যতম কারণ।
শুধু কমিশন কমানো নয়, ভুল বুঝিয়ে বিমা বিক্রি বা ‘মিস-সেলিং’ ঠেকাতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। কোনও বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যা প্রমাণিত হলে কমিশন ফেরত নেওয়া বা ‘ক্ল-ব্যাক’-এর ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে পলিসির বিক্রির তথ্য যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
অনলাইন বিমা বিক্রির ক্ষেত্রেও ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা—অর্থাৎ এমন ডিজিটাল নকশা বা পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না, যা গ্রাহককে বিভ্রান্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
সব মিলিয়ে, আইআরডিএআইয়ের প্রস্তাব কার্যকর হলে কিছু বিমা পণ্যে কমিশন ও বিতরণ খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে পারে। তার সুফল শেষ পর্যন্ত প্রিমিয়ামে কতটা পৌঁছবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত নিয়ম এবং বিমা সংস্থাগুলির মূল্য নির্ধারণের উপর। আপাতত এটি একটি খসড়া প্রস্তাবই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।