বিমানসেবিকার স্বপ্ন ছেড়ে ১২ টনের ট্রাকের স্টিয়ারিং, পাহাড়ি পথে নতুন পরিচয় নেহার

বিমানসেবিকার স্বপ্ন ছেড়ে ১২ টনের ট্রাকের স্টিয়ারিং! ছোটবেলা থেকেই ট্রাকের প্রতি অদ্ভুত টান ছিল নেহা ঠাকুরের। বাবাকে ট্রাক চালাতে দেখেই বড় হয়েছেন তিনি। কখনও বাবার সঙ্গে ট্রাকে চেপে ঘুরেছেন, কখনও…

September 26, 2026
1 min read

বিমানসেবিকার স্বপ্ন ছেড়ে ১২ টনের ট্রাকের স্টিয়ারিং!

ছোটবেলা থেকেই ট্রাকের প্রতি অদ্ভুত টান ছিল নেহা ঠাকুরের। বাবাকে ট্রাক চালাতে দেখেই বড় হয়েছেন তিনি। কখনও বাবার সঙ্গে ট্রাকে চেপে ঘুরেছেন, কখনও সেই ট্রাকেই স্কুলে গিয়েছেন। সেই ছোটবেলার ভালবাসাই এক দিন তাঁকে নিয়ে গেল এক সম্পূর্ণ অন্য পেশায়। বিমানসেবিকা হওয়ার প্রশিক্ষণ ছেড়ে ট্রাকের স্টিয়ারিং হাতে তুলে নিলেন নেহা।

হিমাচল প্রদেশের মন্ডীর বাসিন্দা নেহার বাবা মনোজ ঠাকুর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ট্রাক চালানোর সঙ্গে যুক্ত। বাবার কাজ নেহার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তবে পড়াশোনা শেষ করার পর প্রথমে বাবার পেশা বেছে নেননি তিনি। স্নাতক হওয়ার পরে চণ্ডীগড়ে গিয়ে বিমানসেবিকা হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন।

এর পরেই আসে কোভিড অতিমারি। বিমান পরিষেবা-সহ গোটা বিমানশিল্প বড় ধাক্কার মুখে পড়ায় নিজের শহরে ফিরে আসেন নেহা। তখনই ছোটবেলার সেই পরিচিত জগত—ট্রাক এবং রাস্তার জীবন—নতুন করে তাঁকে টানতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে, মাত্র ২১ বছর বয়সে, ট্রাক চালানো শুরু করেন তিনি। প্রশিক্ষণ নেন বাবার কাছেই। পরিবারের কাছ থেকেও সিদ্ধান্তের জন্য পূর্ণ সমর্থন পান।

প্রথম দিকে স্থানীয় এলাকাতেই ট্রাক চালাতেন নেহা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর যাত্রাপথ। বর্তমানে প্রায় ১২ টনের ট্রাক চালিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণসামগ্রী এবং কৃষিপণ্য পরিবহণ করেন তিনি। পাহাড়ি রাস্তার আঁকাবাঁকা বাঁক, কুয়াশা, বৃষ্টি কিংবা দুর্গম পথ—সবই তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

ট্রাক চালানোর পাশাপাশি নেহা নিজের পথের গল্প ক্যামেরাবন্দি করতেও শুরু করেন। তাঁর কথায়, ট্রাক চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় তাঁর ক্যামেরাও চালু হয়ে যায়। বৃষ্টি, পাহাড়, রাস্তাঘাট কিংবা ট্রাকে মাল ওঠানো-নামানোর দৃশ্য ধরা পড়ে তাঁর ভিডিয়োয়।

একটি দুর্গম পাহাড়ি পথে ট্রাক চালানোর ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে। ভিডিয়োটি বিপুল সংখ্যক মানুষ দেখেন। এরপর ধীরে ধীরে সমাজমাধ্যমে তাঁর অনুরাগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউটিউবে তাঁর সাড়ে চার লক্ষের বেশি এবং ইনস্টাগ্রামে আট লক্ষের বেশি অনুসারী রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সমাজমাধ্যম থেকে আয় এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের সুযোগ এলেও নেহা নিজেকে মূলত ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ নয়, ট্রাকচালক হিসাবেই পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। তাঁর কাছে রাস্তার প্রতিটি দিনই নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন গল্পের সুযোগ।

নেহার একাধিক ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দর্শকদের একাংশ তাঁর আত্মবিশ্বাস ও পেশা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তবে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *