আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে রণবীরকে!
বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে ধুরন্ধর ২, আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রণবীর সিংহ। কিন্তু প্রশংসার ঢেউয়ের মাঝেই আচমকা আইনি জটিলতায় জড়ালেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। আদালতের নির্দেশ—তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের শেষের দিকে। একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে পারফর্ম করতে গিয়ে রণবীর অনুকরণ করেন ঋষভ শেট্টী-র অভিনীত চরিত্রের। বিশেষ করে কান্তারা ছবিতে চামুণ্ডাদেবীর যে শক্তিশালী উপস্থাপনা দেখা গিয়েছিল, সেটিই নকল করে দেখান তিনি। কিন্তু এখানেই তৈরি হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, রণবীর সেই দেবী চরিত্রকে ‘মহিলা ভূত’ বলে উল্লেখ করেন—যা অনেকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।
ভিডিয়োটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই দাবি করেন, এই মন্তব্য শুধু ঋষভ শেট্টীর অভিনয়কে অপমান করেনি, বরং ধর্মীয় বিশ্বাসকেও অসম্মান করেছে। এরপরই কর্নাটকে অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট বার্তা দেন—খ্যাতির সঙ্গে দায়িত্বও আসে। তিনি বলেন, কোনও শিল্পী বা জনমান্য ব্যক্তিরই ধর্মীয় অনুভূতিকে উপহাস করার অধিকার নেই। রণবীরের মতো তারকার প্রভাব অনেক বেশি, তাই তাঁর আচরণে আরও সংযম থাকা প্রয়োজন।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রণবীরকে হলফনামা জমা দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। শুধু আদালতেই নয়, সমাজমাধ্যমেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী।
রণবীরের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, তিনি এই ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, অভিনেতা দ্রুত লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইবেন। পাশাপাশি, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে মহীশূরের চামুণ্ডাদেবীর মন্দিরে গিয়েও প্রার্থনা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারেন।
একদিকে ক্যারিয়ারের শিখরে থাকা, অন্যদিকে বিতর্কের মুখোমুখি—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এখন রণবীরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই দেখার। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—জনপ্রিয়তার সঙ্গে দায়িত্ববোধও সমান জরুরি।