বার্ধক্য রুখতে ১৬০০ কোটির প্রকল্প, শেষমেশ নিজেই বন্ধ করতে চলেছেন ব্রায়ান জনসন!

শেষমেশ নিজেই বন্ধ করতে চলেছেন ব্রায়ান জনসন!! বয়সকে আটকে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি শুরু করেছিলেন ‘ব্লুপ্রিন্ট’। প্রযুক্তির জগতে তিনি সুপরিচিত নাম— ব্রায়ান জনসন। বয়স ৪৬, কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন যেন শরীরটা…

July 24, 2025
1 min read

শেষমেশ নিজেই বন্ধ করতে চলেছেন ব্রায়ান জনসন!!

বয়সকে আটকে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি শুরু করেছিলেন ‘ব্লুপ্রিন্ট’। প্রযুক্তির জগতে তিনি সুপরিচিত নাম— ব্রায়ান জনসন। বয়স ৪৬, কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন যেন শরীরটা থাকে ১৮ বছরের তরুণের মতো। আর সেই লক্ষ্যেই কোটি কোটি ডলার ঢেলে তৈরি করেছিলেন গবেষণাগার, নিয়েছিলেন শতাধিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য। প্রতিদিন চলত ঘড়ি ধরে রুটিন, নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, শরীরচর্চা, এমনকি নিয়মিত রক্তপরীক্ষা পর্যন্ত! কিন্তু অবশেষে নিজেই জানালেন— সব শেষ করার সময় এসেছে।

ব্রায়ান জনসনের এই ‘ব্লুপ্রিন্ট’ প্রোজেক্ট শুরু হয়েছিল ২০২1 সালে। একদিকে দেহের ঘড়ি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে মানুষের বার্ধক্য নিয়ে নতুন ধারণা তৈরি করার প্রয়াস— সেই চেষ্টাই বিশ্বজুড়ে তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। তিনি রোজ ১১ ধরনের সাপ্লিমেন্ট খেতেন, প্রতিটি খাবার মেপে, হিসেব করে খেতেন, ঘুম থেকে শরীরচর্চা— সব ছিল নিয়ন্ত্রিত। এমনকী তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করে দেখা হত, কীভাবে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করা যায়।

এই প্রকল্পে ব্রায়ান খরচ করেছেন প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১৬০০ কোটিরও বেশি। এমন নজিরবিহীন উদ্যোগ দেখে সারা দুনিয়ার বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা চমকে গিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো বিজ্ঞান একদিন বয়সকে হার মানাতে পারবে। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গ হল জনসনের কথায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ব্লুপ্রিন্ট-কে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা নিচ্ছেন।

কিন্তু কেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনসনভক্তদের মধ্যে।

জনসনের বক্তব্য, “ব্লুপ্রিন্ট এক সময় আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। এখন আমি উপলব্ধি করেছি, জীবনের অর্থ কেবল দীর্ঘায়ু নয়। নিজেকে প্রতিনিয়ত বয়সহীন রাখতে গিয়ে জীবনের অনেক সরল আনন্দ হারিয়ে ফেলেছি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তিনি চাইছেন, এই প্রকল্পকে আরও সহজভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে— যাতে কোনও ব্যাক্তি একঘেয়ে রুটিনে আটকে না গিয়ে সচেতনভাবে স্বাস্থ্য সচেতন হতে পারে।

তাঁর এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন অনেকে হতাশ, অন্যদিকে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। বহু মানুষ মনে করেন, জনসনের মতো একজন প্রযুক্তিনির্ভর মানুষ যদি জীবনের সরলতায় ফিরতে চান, তবে সাধারণ মানুষদের জন্যও তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এল সেই চিরন্তন প্রশ্ন— দীর্ঘ জীবন না কি জীবনের গুণগত মান? বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক, মন যদি না মানে, তবে কোনো প্রযুক্তিই জীবনের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে না।

ব্রায়ান জনসনের ব্লুপ্রিন্ট হয়তো এক অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছে, কিন্তু জীবন নিয়ে তাঁর নতুন ভাবনা হয়তো আরও এক আশার আলো দেখাবে আগামী দিনে।

খেলাধুলা বিল ঘিরে বড় রদবদলের মুখে বিসিসিআই! পরিবর্তনের হাওয়া ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *