দিল্লির বিরুদ্ধে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা!
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে আইপিএলে ব্যাট হাতে একেবারে ঝড় তুললেন সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের তরুণ তারকা অভিষেক শর্মা। মাত্র ৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচের গতিপথই বদলে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি উঠে এল তাঁর বাবার নাম। অভিষেক জানান, ছোটবেলা থেকেই মাঠে তাঁর পাশে থাকেন বাবা এবং গ্যালারি থেকেই নিয়মিত শট বাছাইয়ের নির্দেশ দেন। তাঁর কথায়, “অনূর্ধ্ব-১২ থেকেই বাবা প্রতিটা ম্যাচে সাইট স্ক্রিনের পাশে বসে থাকে। আমি নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকলেই বাবা আমাকে বলে দেয় কী খেলতে হবে।”
হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, “পরের ম্যাচ থেকে বাবার দিকে একটা ক্যামেরা রাখবেন, তাহলেই বোঝা যাবে উনি কীভাবে আমাকে কোচিং করান!”
এই ইনিংসে অভিষেক ছিলেন একেবারে আগ্রাসী মেজাজে। মাত্র ২৫ বলে অর্ধশতরান এবং পরের ৫০ রান করেন আরও দ্রুতগতিতে। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার ও ১০টি ছক্কা। দিল্লির বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি।
এই ম্যাচে বিশেষ বিষয় ছিল তাঁর ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা। সাপোর্ট স্টাফ জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন তাঁকে পুরো ২০ ওভার ক্রিজে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অভিষেক বলেন, “এই প্রথম আমি পুরো ২০ ওভার ব্যাট করেছি। পিচ সহজ ছিল না, তাই বুঝে খেলতে হয়েছে। জানতাম বড় রান করলে দল জিতবে।”
ম্যাচে তাঁর নতুন উল্লাসও নজর কাড়ে। আগে শতরান করলে ‘এল’ সাইন দেখাতেন, কিন্তু এবার দেখা গেল একেবারে ভিন্ন ভঙ্গি—হাসিমুখে ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে ব্যাট তুলে ধরেন তিনি, পরে সতীর্থ ঈশান কিশনের সঙ্গে উদযাপন ভাগ করে নেন।
ব্যক্তিগতভাবে এই ইনিংসটি তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর দিদিকে, যিনি অসুস্থ থাকায় ম্যাচ দেখতে আসতে পারেননি। আবেগঘন হয়ে অভিষেক বলেন, “এই শতরান দিদির জন্য।”
এই শতরানের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর শতরানের সংখ্যা দাঁড়াল ৯, যা ভারতীয়দের মধ্যে বিরাট কোহলির সমান। চলতি আইপিএলেও তিনি ফর্মে রয়েছেন, ৩২৩ রান করে এখনো পর্যন্ত কমলা টুপির দৌড়ে শীর্ষে।
সব মিলিয়ে, দিল্লির বিরুদ্ধে অভিষেক শর্মার ইনিংস শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়—এটি হয়ে উঠল পারিবারিক সমর্থন, আত্মবিশ্বাস আর আগ্রাসী ক্রিকেটের এক অনন্য গল্প।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?