বাড়ির অগোছাল দিক থেকে মুক্তি!
বাড়ি সদা অগোছাল লাগছে? যতই গোছানোর চেষ্টা করুন, শেষমেষ সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে? নতুন বাড়ি কিনেছেন বা ভাড়ায় উঠেছেন, এক বছরও যেতে না যেতেই পরিস্থিতি একই রকম হতাশাজনক? ব্যস্ত দিন কাটলেও টিপটপ বাড়ি রাখতে হলে যা দরকার, তা খুব বেশি জটিল নয়। কিছু সোজা অভ্যাস ও কৌশল আপনাকে সাহায্য করবে বাড়ি গুছিয়ে রাখার কাজ সহজ করতে।
কেন বাড়ি হয় এলোমেলো?
আমাদের অধিকাংশ বাড়িতেই এই সমস্যাটি খুব সাধারণ। অতিথি আসার আগেই খানিক ঝাড়ু-পুরি আর ঝকঝকে দেখাতে ঝাঁপিয়ে পড়ি, তারপর আর কেউ না থাকলে আবার আগের মতো অগোছালো। তেমনকি, কখনো হঠাৎ কেউ বাড়িতে এলে লজ্জা পেতে হয় তার অগোছালো অবস্থা দেখে। সবাই বলে—“দিনভর কাজ কর, কোথায় সময় পাবে ঘর গোছানোর?” এটা মোটেই ভুল নয়, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও অভ্যাস থাকলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
১. প্রয়োজনীয়তা বুঝে জিনিস কেনা
পেশাদার ঘরদোরা লরা কাট্টেওনের মতে, অনেক সময় আমাদের বাড়িতে এমন জিনিস জমে থাকে যা প্রয়োজন হয় না। যেমন: রান্নার অনেক গ্যাজেট বা পোশাক, প্রসাধনী যা ব্যবহার হয় না। আগাম কেনাকাটা করার সময় কী দরকার তা ভালোভাবে যাচাই করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়িতে জায়গা দখল করে এলোমেলো করে তোলে।
২. সঠিক জায়গায় রাখুন
ঘরে আলমারি বা দেরাজে জিনিস রাখার সময় খেয়াল রাখুন, বেশি বড় বড় আলমারি কিনে ফেলা মানে সমস্যার সৃষ্টি। লরার পরামর্শ, কিছু জিনিস রাখুন খোলা বাক্সে, কিছু ঢাকা রাখুন, যেন ঘর আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছন্দ দেখায়। বসার জায়গার নিচে বা ফার্নিচারের মধ্যে গুছানোর ব্যবস্থা রাখলেই সাহায্য হবে।
৩. নিয়মিত পরিষ্কার-গুছানো
দিনে অন্তত একবার নির্দিষ্ট সময় করে বসার ঘর, টেবিল বা শোবার ঘর গুছিয়ে নিতে হবে। রাতের আগে একটু সময় দিলে সকালে ঘর টাটকা মনে হবে। নিয়মিত কাজ না করলে গণ্ডগোল জমে যায়।
৪. বিছানা সকালে গুছিয়ে নিন
ঘুম থেকে উঠে বিছানার চাদর সোজা করে ফেলুন। ভাঁজ না করা বিছানা সারাদিনে ঘরকে অগোছালো দেখাবে আর মানসিক চাপ বাড়াবে।
৫. টেবিল ও আবর্জনা ফেলার পাত্র পরিষ্কার রাখুন
খাবার থেকে শুরু করে ওষুধ, কাগজপত্র অনেকেই টেবিলে রেখে দেন, পরে সব মিশে যায়। আবর্জনা পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন, যাতে দুর্গন্ধ ও এলোমেলোতা না হয়।
৬. জরুরি নথি গুছিয়ে রাখুন
পরিচয়পত্র, পরীক্ষা রেজাল্ট, অর্থ লগ্নির কাগজপত্র—সব কাগজপত্রের জন্য আলাদা ফোল্ডার রাখুন। প্রয়োজনে সহজে খুঁজে পাবেন আর ঝামেলা কমবে।
৭. অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিন
পুরোনো কাপড়, খেলনা, জিনিসপত্র যারা আর ব্যবহার করে না, তাদের দিতে পারেন বা বাতিল করতে পারেন। নতুন জিনিস আনতে চাইলে পুরোনো কিছু ফেলে দেওয়াটা জরুরি।
এশিয়ান কাপে খেলাই এখন লক্ষ্য, সতীর্থদের বার্তা দিলেন মরিয়া সুনীল ছেত্রী