বাংলার ধানের সুবাসে বিশ্বস্বীকৃতি: গোবিন্দভোগ–সহ তিন চাল ও ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সম্মান

বাংলার ধানের সুবাসে বিশ্বস্বীকৃতি: গোবিন্দভোগ! পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ঐতিহ্য ও গ্রামবাংলার পরিশ্রম এবার পেল আন্তর্জাতিক মর্যাদা। গোবিন্দভোগ–সহ রাজ্যের তিন ধরনের সুগন্ধি চালকে স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)। একই…

February 19, 2026
1 min read

বাংলার ধানের সুবাসে বিশ্বস্বীকৃতি: গোবিন্দভোগ!

পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ঐতিহ্য ও গ্রামবাংলার পরিশ্রম এবার পেল আন্তর্জাতিক মর্যাদা। গোবিন্দভোগ–সহ রাজ্যের তিন ধরনের সুগন্ধি চালকে স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছে রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পও।

এই খবর সমাজমাধ্যমে জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই সম্মান গ্রামবাংলার কৃষক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশেই উৎসর্গ করেছেন।

কোন কোন চাল পেল স্বীকৃতি

এফএও বাংলার তিনটি বিখ্যাত সুগন্ধি চালকে খাদ্য–সংস্কৃতির ‘হেরিটেজ’ মর্যাদা দিয়েছে—

  • গোবিন্দভোগ – প্রধানত বর্ধমান, হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়া ও বীরভূমে চাষ হয়।
  • তুলাইপাঞ্জি – উত্তর দিনাজপুর ও উত্তরবঙ্গের পরিচিত চাল।
  • কনকচূড় – দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিশেষ সুগন্ধি ধান।

এই তিনটি চাল বহুদিন ধরেই বাংলার রান্না ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। পোলাও থেকে ভোগ— বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পদে এদের ব্যবহার জনপ্রিয়।

‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের সাফল্য

শুধু ধান নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে রাজ্য সরকারের আন্তর্বিভাগীয় প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’। ২০২০ সালে পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি সমস্যার সমাধানে এই প্রকল্প শুরু হয়।

এর মূল লক্ষ্য ছিল—

  • অনাবাদি ও রুক্ষ জমিকে চাষযোগ্য করে তোলা
  • নতুন জলাধার ও সেচব্যবস্থা তৈরি
  • একফসলি জমিকে বহুফসলি করা
  • গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

ভূমি, সেচ ও পঞ্চায়েত দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এফএও এটিকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এটি রাজ্যের জন্য অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। তাঁর কথায়, এই স্বীকৃতি আসলে বাংলার কৃষকদের পরিশ্রম ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতি। তিনি এফএও-র পাঠানো শংসাপত্রও জনসাধারণের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মান

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কয়েকটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ—

  • বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতি বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে
  • স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য বাড়াতে সাহায্য করবে
  • কৃষকদের আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে
  • টেকসই কৃষি উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরবে

বাংলার গর্ব

গোবিন্দভোগের সুবাস, তুলাইপাঞ্জির ঐতিহ্য আর কনকচূড়ের স্বাদ— সব মিলিয়ে বাংলার কৃষি সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই স্বীকৃতি যেন সেই দীর্ঘ পরিশ্রমের আন্তর্জাতিক সিলমোহর।

গ্রামের মাটিতে জন্ম নেওয়া ধানের এই সুবাস এখন পৌঁছে গেল বিশ্বমঞ্চে— আর তাতেই গর্বিত বাংলা।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *