বস্তা থেকে চুঁইয়ে পড়ছিল রক্ত, অযোধ্যা পাহাড়ের পথে পুলিশি নাকায় ধরা যুবক! তরুণীকে খুনের অভিযোগ পুরুলিয়ায়

বস্তা থেকে চুঁইয়ে পড়ছিল রক্ত! রাতের অন্ধকারে বাইকে চাপানো বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন এক যুবক। পুরুলিয়ার বলরামপুরে নাকা চেকিংয়ের সময় বস্তা দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে বস্তা থেকে রক্তের দাগ…

September 13, 2026
0 min read

বস্তা থেকে চুঁইয়ে পড়ছিল রক্ত!

রাতের অন্ধকারে বাইকে চাপানো বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন এক যুবক। পুরুলিয়ার বলরামপুরে নাকা চেকিংয়ের সময় বস্তা দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে বস্তা থেকে রক্তের দাগ দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ। অভিযোগ, প্রেমিকাকে খুন করে তাঁর দেহ অযোধ্যা পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই যুবক। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরুলিয়ায়।

শনিবার রাতে বিদ্যুৎ দফতরের অফিসের কাছে নাকা চেকিং চলছিল। সেই সময় বাইকে বস্তা নিয়ে যাওয়া যুবককে থামায় পুলিশ। বস্তা থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়তে দেখে সেটি খুলে পরীক্ষা করা হয়। সেখানেই উদ্ধার হয় তরুণীর দেহ। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশের দাবি, জেরায় ওই যুবক খুনের কথা স্বীকার করেছেন। রবিবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়।

পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মৃতা এবং অভিযুক্ত দু’জনেরই বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। ১৯ বছরের ওই তরুণী নার্সিং নিয়ে পড়াশোনার জন্য পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন। অন্য দিকে, অভিযুক্ত চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং তিনিও শহরের একটি মেসে থাকতেন।

মৃতার পরিচিতদের দাবি, দু’জনের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একই কোচিংয়েও পড়তেন। সম্প্রতি প্রেমিকাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যুবকের। তরুণী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন— এমন সন্দেহ থেকেই তাঁদের মধ্যে বচসা চলছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শনিবার তরুণীকে কোনও নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর পর দেহ বস্তায় ভরে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পথে পুলিশের নাকা চেকিংয়ে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

এ দিকে শনিবার দুপুরে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে মেস থেকে বেরিয়েছিলেন তরুণী। তার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাকে ফোন করতেন তিনি। সেদিন ফোন না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা। ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এর পর তরুণীর বাবা মেসের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবার পুরুলিয়া শহরে এসে খোঁজ শুরু করে এবং থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানায়। পরে রাতে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করার পাশাপাশি তরুণীর দেহ উদ্ধার করে।

মৃতার এক আত্মীয়ের দাবি, হাসপাতালের তরফে তাঁদের জানানো হয়েছে, খুনের আগে তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। পরিবারের তরফে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ২০২২ সালের বহরমপুরের সুতপা চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিও উস্কে দিয়েছে। সেই ঘটনাতেও সম্পর্কের জটিলতার জেরে এক তরুণীকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। পুরুলিয়ার ঘটনায় তদন্ত যত এগোবে, খুনের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সম্পূর্ণ ধারাবাহিকতা ততই স্পষ্ট হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *