বস্তাবন্দি অবস্থাতেই পুকুরে ফেলা হয়েছিল কিশোরীকে!
বারুইপুরের ১২ বছরের কিশোরী মৃত্যুকাণ্ডে সামনে এসেছে নতুন ও আরও উদ্বেগজনক তথ্য। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের অনুমান, কিশোরীকে খুন করে নয়, বরং জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। যদিও সে সময় গুরুতর জখম হয়ে অচৈতন্য অবস্থায় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তে কিশোরীর ফুসফুসে কাদা-মিশ্রিত জল পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার পরে দেহ জলে ফেলে দিলে সাধারণত ফুসফুসে জল ঢোকে না। কিন্তু ডুবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ফুসফুসে জল প্রবেশ করে। সেই কারণেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, পুকুরে ফেলার সময় কিশোরীর শরীরে তখনও প্রাণ ছিল।
ময়নাতদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কিশোরীর শরীরে নির্মম নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি মাথায়ও গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল অথবা শক্ত জায়গায় মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল। ওই আঘাতের জেরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্টে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবে শ্বাসরোধ—এই দুই কারণকেই সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের অনুমান, শনিবার গভীর রাতেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
তদন্তে এখন সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ধৃতদের জবানবন্দি মিলিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্গঠন করার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে কিশোরীকে সূর্যপুর বাজারের মূল রাস্তা দিয়ে একা হাঁটতে দেখা যায়। কিছুটা দূরে লাল টি-শার্ট ও নীল টুপি পরা এক যুবক তার পিছনে হাঁটছিলেন। মাত্র তিন মিনিট পরে সেই যুবকের সঙ্গেই কিশোরীকে ফিরে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবকই প্রভাস মণ্ডল। পরে তাঁর দেখানো জায়গা থেকেই প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় কিশোরীর দেহ।
প্রভাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আরও কয়েক জনের নাম জানতে পারে। তবে তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। প্রথমে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেও পরে জানান, চার জন মিলে কিশোরীকে নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, আনন্দ সর্দার নামে এক ব্যক্তি অপহরণের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। কিন্তু তদন্তকারীদের প্রশ্ন, যদি প্রভাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত না-থাকেন, তা হলে খুনের পদ্ধতি বা দেহ কোথায় ফেলা হয়েছে, সে সম্পর্কে এত তথ্য তিনি জানলেন কীভাবে?
শুধু প্রভাস নন, অন্য ধৃতদের বক্তব্যেও অসামঞ্জস্য মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। কেন কিশোরীকে হত্যা করা হল, তা নিয়ে দুটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, অভিযুক্তদের চিনে ফেলেছিল বলে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, নিখোঁজ হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ধরা পড়ার ভয় থেকেই তার মাথায় আঘাত করে অচৈতন্য অবস্থায় বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
এক প্রতিবেশীর কথায়, উদ্ধার হওয়া বস্তাটি ছেঁড়া ছিল। তাঁর অনুমান, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেরিয়ে আসার মরিয়া চেষ্টা করেছিল কিশোরী। তদন্তকারীরা এখন সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?