ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে হেপাটাইটিস— জেনে রাখুন সতর্কতার উপায়!
বর্ষাকাল মানেই শুধু বৃষ্টি আর মনোরম আবহাওয়া নয়, সঙ্গে আসে নানা ধরনের সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও। এই সময়ে ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ও জলবাহিত জীবাণুর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। তাই বর্ষার সময়ে কোন কোন রোগ থেকে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে হবে, তা অভিভাবকদের আগে থেকেই জানা জরুরি।
ইনফ্লুয়েঞ্জা
মৌসুমি ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা বর্ষার অন্যতম সাধারণ সংক্রমণ। এটি সাধারণ সর্দি-কাশির তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা এর প্রধান লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে, তাই জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হেপাটাইটিস এ ও ই
বর্ষায় দূষিত জল ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ এবং ই ছড়ানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। রাস্তার কাটা ফল, খোলা খাবার, অপরিষ্কার জল বা পানীয় থেকে এই সংক্রমণ হতে পারে। এতে লিভারে প্রদাহ দেখা দেয় এবং জন্ডিস, বমি, ক্ষুধামন্দা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর আকারও নিতে পারে।
টাইফয়েড
সালমোনেলা টাইফি ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে টাইফয়েড হয়। দূষিত খাবার ও পানীয় এর প্রধান উৎস। টানা জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, পেটের সমস্যা এবং অনেক ক্ষেত্রে শরীরে র্যাশ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
লেপ্টোস্পাইরোসিস
বর্ষার জমা জলের মাধ্যমে ছড়ানো অন্যতম বিপজ্জনক ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ হল লেপ্টোস্পাইরোসিস। ইঁদুর বা অন্য কিছু প্রাণীর মূত্রের মাধ্যমে জীবাণু জলে মিশে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, চোখ লাল হওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি বা লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ভাইরাল জ্বর ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ
অ্যাডিনোভাইরাস ও রাইনোভাইরাসের মতো ভাইরাস বর্ষায় বেশি সক্রিয় থাকে। এগুলির সংক্রমণে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ, জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় নিউমোনিয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
শিশুদের সুরক্ষায় কী করবেন?
- ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করা জল পান করান।
- রাস্তার খোলা খাবার, কাটা ফল বা অপরিষ্কার পানীয় এড়িয়ে চলুন।
- খাওয়ার আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- বৃষ্টির জমা জলে শিশুদের খেলতে দেবেন না।
- মশার কামড় এড়াতে মশারি, রিপেলেন্ট বা পূর্ণহাতা পোশাক ব্যবহার করুন।
- জ্বর, বমি, ডায়েরিয়া, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বর্ষাকালে সামান্য অসতর্কতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ জল গ্রহণ এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসা করানোই শিশুদের সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?