ফেলুদা থেকে বিদায়ের ভাবনা, তবু রহস্যের সঙ্গেই থাকতে চান টোটা

ফেলুদা থেকে বিদায়ের ভাবনা! বড়দিন এলেই নিয়মমাফিক নতুন ফেলুদা— এ যেন বাঙালির চেনা অভ্যাস। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে এ বার রহস্যের পটভূমি ঘন জঙ্গল, নতুন পরিচালক, নতুন…

December 23, 2025
1 min read

ফেলুদা থেকে বিদায়ের ভাবনা!

বড়দিন এলেই নিয়মমাফিক নতুন ফেলুদা— এ যেন বাঙালির চেনা অভ্যাস। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে এ বার রহস্যের পটভূমি ঘন জঙ্গল, নতুন পরিচালক, নতুন স্বাদ। কিন্তু এক জিনিস অটুট— ফেলুদা হয়ে ফিরছেন টোটা রায়চৌধুরী। পাশে বরাবরের মতোই জটায়ু, অর্থাৎ অনির্বাণ চক্রবর্তী।

শুটিংয়ের ফাঁকে দু’জনের কথোপকথনে ধরা পড়ল বন্ধুত্ব, রসিকতা আর খানিক ভবিষ্যৎ-ভাবনা। অনির্বাণের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমেই ফোন করেছিলেন টোটা। অনির্বাণ হাসতে হাসতে বললেন, “ওই সময় ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলানোটাই সবচেয়ে জরুরি ছিল। তবে হ্যাঁ, খবর ছড়াতেই প্রথম ফোনটা ফেলুবাবুরই এসেছিল।”

ফেলুদা প্রসঙ্গে তুলনা এলেই টোটা একেবারে স্পষ্ট। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বা সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে নিজেকে মাপতে নারাজ তিনি। তাঁর কথায়, “সৌমিত্রবাবু দু’বার ফেলুদা হয়েও কালজয়ী। সেই উচ্চতায় ‘ছাপিয়ে যাওয়া’ শব্দটা মানায় না। আমি কেবল ভাগ্যবান যে এই চরিত্রটা করার সুযোগ পেয়েছি।”

জটায়ু চরিত্রে অনির্বাণকে নিয়ে তুলনাও এখন অনেকটাই থেমেছে। তবু তিনি মনে করেন, “সন্তোষ দত্ত মানেই জটায়ু— এটা বদলানোর নয়। তুলনা হলে রাগ করার কিছু নেই। বরং সেই একই লাইনে নাম আসাটাই বড় পাওয়া।”

নতুন ছবিতে জায়গা বদলেছে, পরিচালকের আসনেও বদল। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের জায়গায় এ বার দায়িত্বে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। জঙ্গল, বাঘ, সাপ— সবই এসেছে প্রযুক্তির সাহায্যে। অনির্বাণের কথায়, “এখন বন্যপ্রাণী নিয়ে সরাসরি শুট করা আইনত সম্ভব নয়। প্রযুক্তিই ভরসা।”

আড্ডার মাঝেই এল সবচেয়ে আকর্ষণীয় মন্তব্য। টোটার স্বীকারোক্তি, “একটা সময়ের পর ‘ফেলুদা’ চরিত্রটা ছাড়তেই হবে। সে দিন যদি রহস্যের দুনিয়ায় থাকতেই হয়, তা হলে না হয় ‘একেনবাবু’র সহকারী হয়ে যাব।” প্রসঙ্গত, ‘একেনবাবু’ও অনির্বাণেরই আর এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সত্তা।

এই মন্তব্যে অনির্বাণ হেসে উড়িয়ে দিলেন সম্ভাবনাটা। “অসম্ভব। কেউ মানবে না। আমিও না। জানেন, ‘একেন’ বোঝাতে আমায় বলা হয়েছিল— জটায়ু যদি ফেলুদা হত, ঠিক যেমন হতো!”

ফেলুদার বিয়ে নিয়ে রসিকতাও বাদ গেল না। টোটা মজা করে জানালেন, ফেলুদা আসলে চিরকুমার, স্বাধীনচেতা। তবু যদি বিয়ের প্রশ্ন ওঠে, তবে পাত্রী হিসেবে তাঁর কল্পনায় জায়গা পায় ইনোলা হোমস!

বারবার ফেলুদা ফিরে আসছে— দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী হবে? টোটার উত্তর সোজাসাপটা, “যাঁরা দেখার, তাঁরা দেখবেন। আগেও একসঙ্গে একাধিক ব্যোমকেশ এসেছে, দুটোই হিট হয়েছে।”

সবশেষে টোটার কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা। ভবিষ্যতে ‘টিনটোরেটর যিশু’র নতুন রূপে অভিনয়ের ইচ্ছে তাঁর। কারণ, ওই ছবিই তাঁর মনে গোয়েন্দা-অভিনয়ের আগুন জ্বালিয়েছিল।

ফেলুদা থেকে সরে যাওয়ার ভাবনা থাকলেও, রহস্যের দুনিয়া ছাড়তে চান না টোটা। চরিত্র বদলালেও, কৌতূহল আর বুদ্ধির খেলায় থাকার আকাঙ্ক্ষা যে অটুট— সেটাই যেন এই কথোপকথনের আসল রহস্য।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *