ফরাসি ওপেনের ইতিহাসে নতুন যুগ!
ফরাসি ওপেন ২০২৫-এর ফাইনাল যেন ছিল এক রুদ্ধশ্বাস সিনেমা, যার প্রতিটি দৃশ্যেই উত্তেজনার চরমসীমা। কার্লোস আলকারাজ় এবং ইয়ানিক সিনারের মধ্যে খেলা ফাইনালটি ছিল এতটাই নাটকীয় ও ঐতিহাসিক, যে একে শুধুই একটি ম্যাচ বললে কম বলা হবে। প্যারিসের ফিলিপে শঁতিয়ে কোর্টে পাঁচ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের যুদ্ধের শেষে শেষ হাসি হাসলেন স্পেনের ২২ বছরের ‘শিকারি’— কার্লোস আলকারাজ়। পাঁচ সেটে, তিন বার পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে নেওয়ার এই গল্প নতুন এক কিংবদন্তির জন্ম দিল টেনিস দুনিয়ায়।
ম্যাচের সূচনা থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথম দুই সেটে পিছিয়ে গিয়েছিলেন আলকারাজ়। সেখানে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ তিনটি সেট জয় করে এই তরুণ স্প্যানিয়ার্ড যেন নিজের ইচ্ছাশক্তি আর মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। চতুর্থ সেটে তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট থেকেও ম্যাচ শেষ করতে ব্যর্থ হন সিনার। আলকারাজ় তাঁকে বাধ্য করেন ভুল করতে, জেতেন টাইব্রেকার। পঞ্চম সেটেও রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত, যেখানে সুপার টাইব্রেকারে সিনার পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। শেষ পয়েন্টে আলকারাজ়ের ফোরহ্যান্ড লাইনে পড়তেই ইতিহাস রচিত হয়।
কার্লোস আলকারাজ়ের এই উত্থান এসেছে কোনও রাজপথে নয়, বরং পাহাড়ঘেরা স্পেনের ছোট্ট গ্রাম এল পালমার থেকে। এক সময় যেখানে শিকার ছিল জীবিকার মূল পথ, সেই গ্রামের ‘রিয়াল সোসিয়েদাদ ক্লাব ডে ক্যাম্পো’-তেই টেনিস হাতে তুলে নিয়েছিলেন ছোট্ট কার্লোস। তাঁর বাবা ছিলেন সেই ক্লাবের টেনিস ডিরেক্টর। সেখানেই শুরু টেনিস যাত্রা, প্রথমে কোচ কিকো নাভারোর তত্ত্বাবধানে। ছোট থেকেই স্পষ্ট ছিল— এই ছেলে একদিন বড় কিছু করবে।
শুধু প্রতিভা নয়, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম আর সাহসিকতার মিশেলেই আলকারাজ় পেরিয়ে এসেছেন বহু কঠিন বাঁক। জুনিয়র পর্যায়ে আশানুরূপ ফল না হলেও, ১৬ বছর বয়সে পেশাদার টেনিসে পা রেখে চমক দিতে শুরু করেন। ২০২১ সালে প্রথম খেতাব জিতে জানান দেন, তিনি এসেছেন রাজত্ব করতে। তারপর থেকে পেছনে ফিরে তাকাননি। ইতিমধ্যেই পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম তাঁর ঝুলিতে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ ইয়ানিক সিনারও কম যান না। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী এই তরুণ ইতালীয় খেলোয়াড়কে ঘিরে আগেই তৈরি হয়েছিল বিতর্কের ঝড়। অনিচ্ছাকৃত ডোপিংয়ের কারণে নির্বাসিত হন তিন মাস। এই ফরাসি ওপেন তাঁর কাছে ছিল পাপমোচনের সুযোগ। সেই সুযোগের এত কাছে এসেও তা হারিয়ে যাওয়ার কষ্ট ফুটে উঠেছিল ম্যাচশেষে তাঁর চোখে।
তবে যে প্রশ্ন বহুদিন ধরেই ঘুরছে— নাদাল-ফেডেরার-জোকোভিচের পর টেনিসের ব্যাটন কার হাতে উঠবে— তার জবাব মিলল এ দিনের ম্যাচে। সিনার ও আলকারাজ় প্রমাণ করে দিলেন, পরবর্তী দশ বছর টেনিসের মঞ্চ তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তাঁরা শুধু পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি নন, বরং নতুন যুগের পথপ্রদর্শক।
আলকারাজ় নিজেই একসময় বলেছিলেন, তিনি কখনও সরাসরি নাদালের শিষ্য হননি, তবে তাঁকে মনে করেন নিজের দ্রোণাচার্য। রবিবার ঠিক সেই মঞ্চেই ‘একলব্য’ আলকারাজ় লিখে গেলেন এমন এক মহাকাব্য, যা টেনিস ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
টাটকা লাউ কিনবেন কীভাবে? চেনুন কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মেশানো সব্জি