রানিনগর-টালিগঞ্জে নাম ঘোষণা না হওয়ায় সিপিএমে জল্পনা তুঙ্গে!
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে CPM নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। তবে প্রথম তালিকা প্রকাশের পরই দলের অন্দরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। বিশেষ করে Raninagar এবং Tollygunge— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হওয়ায় চর্চা তুঙ্গে।
রানিনগরে এগিয়ে থেকেও প্রার্থী ঘোষণা নয় কেন?
গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র রানিনগরেই এগিয়ে ছিল সিপিএম। সেই কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন, এই আসনে জোরদার লড়াইয়ের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী নামানো হবে।
বিশেষ করে দলের রাজ্য সম্পাদক Mohammad Salim-এর নাম নিয়েও জল্পনা ছিল। তিনি লোকসভা নির্বাচনে ওই অঞ্চলে তুলনামূলক ভাল ফল করেছিলেন। ফলে অনেকের মতে, তাঁকে প্রার্থী করলে রানিনগরে জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে পারত।
তবে দলের একটি নীতিগত সিদ্ধান্তই আপাতত এই সম্ভাবনায় ব্রেক কষেছে।
‘সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা লড়বেন না’— এই নীতিই জটিলতার মূল?
দলীয় সূত্রের খবর, সিপিএম এ বার ঠিক করেছে যে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে খুব সীমিত সংখ্যকই ভোটে লড়বেন। ব্যতিক্রম হিসেবে শুধু Minakshi Mukherjee-কে প্রার্থী করা হয়েছে, যিনি উত্তরপাড়া থেকে লড়বেন।
এই নীতির কারণেই সেলিমের প্রার্থিতা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। ফলে রানিনগরে এখনও পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
টালিগঞ্জেও একই ধোঁয়াশা
শুধু রানিনগরই নয়, Tollygunge আসনেও প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে। এখানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে Sujan Chakraborty-এর নাম।
তবে তিনি নিজে নাকি ভোটে লড়তে বিশেষ আগ্রহী নন। বরং সংগঠন ও প্রচারের কাজে মন দিতে চান বলেই জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠ মহলে।
সমীকরণ কী বলছে?
দলের অন্দরের একটি অংশ মনে করছে, যদি সুজন টালিগঞ্জে লড়তে রাজি হন, তবে রানিনগরে সেলিমের প্রার্থিতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে। অর্থাৎ, এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষা করেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে চাইছে দল।
তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। সেলিম নিজেও এই প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বলে ‘অপেক্ষা করার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রথম তালিকা নিয়েই প্রশ্ন
বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই তালিকা নিয়েও দলের ভিতরে নানা মতভেদ রয়েছে। কোথাও তরুণ মুখ, কোথাও আবার অভিজ্ঞ নেতাদের প্রাধান্য— এই মিশ্র কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।
একাংশ মনে করছে, অভিজ্ঞ নেতাদের ফের সামনে আনা দলের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। আবার অন্য অংশের মতে, তরুণ নেতৃত্বকেও আরও সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
জোট শরিকদের অসন্তোষ
শুধু দলের ভিতরেই নয়, শরিক দলগুলির মধ্যেও কিছু অসন্তোষ দেখা গিয়েছে। যেমন Forward Bloc ইতিমধ্যেই কয়েকটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এতে বোঝাই যাচ্ছে, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা এখনও সহজ কাজ নয়।
এখন নজর চূড়ান্ত তালিকায়
সব মিলিয়ে, রানিনগর ও টালিগঞ্জ— এই দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। সেলিম ও সুজন— দুই অভিজ্ঞ নেতার ভূমিকা কী হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই ধোঁয়াশা যে কাটবে না, তা স্পষ্ট।
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়