প্রায় ২০০ ওষুধ ও প্রসাধনী বাতিল: জ্বর-কাশির ককটেল ওষুধও বাদ পড়ল সিডিএসসিও-র তালিকা থেকে

প্রায় ২০০ ওষুধ ও প্রসাধনী বাতিল! জ্বর, সর্দি-কাশির ককটেল ওষুধ থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপের ইনজেকশন কিংবা প্রসাধনী দ্রব্য—এবার এক ঝটকায় প্রায় ২০০টি পণ্য বাতিল করল ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক…

May 24, 2025
1 min read

প্রায় ২০০ ওষুধ ও প্রসাধনী বাতিল!

জ্বর, সর্দি-কাশির ককটেল ওষুধ থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপের ইনজেকশন কিংবা প্রসাধনী দ্রব্য—এবার এক ঝটকায় প্রায় ২০০টি পণ্য বাতিল করল ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত গুণগত মান পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, ১৯৬টি ওষুধ, ইনজেকশন এবং কিছু পরিচিত প্রসাধনী পণ্য মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসেই বাজারে থাকা বিভিন্ন ওষুধ ও পণ্যের নির্দিষ্ট ব্যাচ পরীক্ষা করে দেখা হয়—সেগুলি নির্ধারিত মান বজায় রাখছে কি না। যেগুলি সেই মানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, সেগুলিকেই “নন-স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি” (NSQ) তালিকাভুক্ত করা হয়।

এই তালিকায় যা রয়েছে তা সাধারণ মানুষের কাছে খুব পরিচিত নাম। তালিকায় রয়েছে প্যারাসিটামল, কাশির সিরাপ, অ্যালার্জির ওষুধ, এমনকি বেশ কিছু ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) ওষুধ—যেগুলিতে একাধিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশ্রিত থাকে। এসবকেই অনেকে “ককটেল ওষুধ” নামে চেনেন। সহজ কথায়, একাধিক সমস্যার সমাধান দেওয়ার দাবিতে তৈরি এই ওষুধগুলোই এখন প্রশ্নের মুখে।

তালিকায় শুধুই ওষুধ নয়, রয়েছে পরিচিত প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘মামাআর্থ’-এর কিছু পণ্যও, যেগুলিকে গুণগত মানের পরীক্ষায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ, যেসব ওষুধ এত দিন নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছিল—চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ছিল, ফার্মেসিতে সহজলভ্য ছিল—তা যদি গুণগত মান বজায় রাখতে না পারে, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

CDSCO-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা প্রতি মাসেই নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করি। নির্দিষ্ট পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে সেই ব্যাচের ওষুধ আর বিক্রি করা যাবে না। এটি জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।”

এই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধু কোম্পানিগুলির উপরই নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে সচেতন থাকার। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ বা খোলাখুলি ফার্মেসিতে থাকা ওষুধ না কেনা—এসব অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, সিডিএসসিও-র এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর পাশাপাশি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকেও গুণগত মান বজায় রাখতে আরও কঠোর মনোযোগ দিতে হবে—না হলে চিকিৎসা নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

আপনি যদি এই তালিকায় থাকা ওষুধের নাম জানতে চান বা কীভাবে নিরাপদ ওষুধ বেছে নেবেন, জানতে চান, আমি সাহায্য করতে পারি। চাইলে এখান থেকে ওষুধের তালিকা, NSQ কী, বা FDC ওষুধ বোঝা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *