প্রশ্নফাঁসে ১০ বছরের জেল, ১০ কোটি টাকা জরিমানা!
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক ও আন্দোলনের মধ্যেই বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন আনার খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই সংসদে বিলটি পেশ করা হতে পারে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের ব্যবস্থাও করা হবে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি।
বৃহস্পতিবার রাতে একটি ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধকে কঠোর হাতে দমন করতে সরকার নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করছে। তাঁর কথায়, “প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টি।” তিনি আরও জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা খসড়া বিলে অনুমোদন দেয়। সরকার আশা করছে, সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাশ করানো সম্ভব হবে।
নিট কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ অনশন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনের অন্যতম দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিরোধীরাও সরব হয়েছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে লেখেন, শুধু ভিডিওবার্তা নয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগের জবাব দেওয়া প্রয়োজন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংসদে এসে এই বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবারও নিট ইস্যুতে উত্তাল ছিল সংসদ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভের জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম বারবার মুলতুবি হয়। শেষ পর্যন্ত দিনের বাকি সময়ের জন্য উভয় কক্ষের অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হয়।
এদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্ত এখনও চালিয়ে যাচ্ছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পটনার বিশেষ আদালতে ইতিমধ্যে পাঁচটি চার্জশিট জমা পড়েছে এবং মোট ৪৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। সম্প্রতি সিবিআই ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখিয়ার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র চুরি বা বিক্রির প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই কারণেই নতুন আইন কার্যকর হলেও তদন্ত ও বিচারের গতি কতটা বাড়বে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?