‘দ্য ফাইনাল সেট’-এ এভার্ট-নাভ্রাতিলোভার অনন্য গল্প!
টেনিস কোর্টে তাঁরা ছিলেন একে অপরের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। কিন্তু জীবনের কঠিনতম সময়ে সেই প্রতিদ্বন্দ্বীই হয়ে উঠেছেন সবচেয়ে কাছের মানুষ। নেটফ্লিক্সের নতুন তথ্যচিত্র ‘ক্রিস অ্যান্ড মার্টিনা: দ্য ফাইনাল সেট’ তুলে ধরেছে কিংবদন্তি ক্রিস এভার্ট ও মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার সম্পর্কের সেই অসাধারণ যাত্রা।
প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে পরিচালক রেবেকা গিটলিটজ দেখিয়েছেন কীভাবে ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে টেনিস কোর্টে তীব্র লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত গভীর বন্ধুত্বে আবদ্ধ হন দুই কিংবদন্তি। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে তাঁরা ৮০ বার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই শুধু মহিলা টেনিসকে জনপ্রিয় করেনি, পরবর্তী প্রজন্মের অনেক ঐতিহাসিক দ্বৈরথের পথও তৈরি করেছে।
ছবির অন্যতম শক্তি, এটি শুধুমাত্র তাঁদের সাফল্যের গল্প নয়। ২০২১ সালে এভার্টের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার এবং ২০২৩ সালে নাভ্রাতিলোভার স্তন ও গলার ক্যানসার ধরা পড়ার পর, কীভাবে তাঁরা একে অপরের মানসিক শক্তি হয়ে ওঠেন, সেই মানবিক দিকও অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্রে রয়েছে পুরনো ম্যাচের আর্কাইভ ফুটেজ, সাক্ষাৎকার এবং দুই কিংবদন্তির অকপট স্মৃতিচারণ। এভার্টের আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্বের বিপরীতে নাভ্রাতিলোভার খোলামেলা ও আবেগপ্রবণ স্বভাব তাঁদের কথোপকথনকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। বহু বছর পর একই সোফায় বসে নিজেদের ঐতিহাসিক ম্যাচ দেখতে দেখতে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
একই সঙ্গে পরিচালক দেখিয়েছেন সেই সময়ের মহিলা টেনিসকে ঘিরে থাকা সামাজিক বৈষম্যও। এভার্ট ছিলেন আমেরিকার ‘অল-আমেরিকান গার্ল’-এর প্রতীক, অন্যদিকে অভিবাসী এবং সমকামী পরিচয়ের কারণে নাভ্রাতিলোভাকে দীর্ঘদিন সংবাদমাধ্যমের কটাক্ষ ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এই বৈপরীত্য ছবিটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
তবে তথ্যচিত্রের একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কোর্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে এতটাই বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে তাঁদের ক্যানসারের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই এবং সেই বন্ধুত্বের আবেগঘন দিকটি আরও কিছুটা বেশি জায়গা পেতে পারত।
তবুও ছবির সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, এটি দর্শককে বুঝিয়ে দেয়—জয়-পরাজয়, গ্র্যান্ড স্ল্যাম কিংবা ট্রফির হিসাবের বাইরেও খেলাধুলার এক গভীর মানবিক রূপ রয়েছে। একসময় যাঁরা একে অপরকে হারানোর জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতেন, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাঁরাই হয়ে উঠেছেন একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা।
‘ক্রিস অ্যান্ড মার্টিনা: দ্য ফাইনাল সেট’ তাই শুধু দুই টেনিস কিংবদন্তির গল্প নয়; এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সম্মান, বন্ধুত্ব এবং জীবনের কঠিন পরীক্ষায় মানুষের পাশে মানুষের থাকার এক অনুপ্রেরণাদায়ক দলিল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?