পেটে মোচড়, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য
কখনও পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা, কখনও পেট ফাঁপা, আবার কখনও মলত্যাগের সমস্যা—পেটের নানা গোলমাল অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা IBS-এর ক্ষেত্রেও এমন উপসর্গ দেখা যেতে পারে। মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, এমনকি জিনগত কারণও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে খাবারের তালিকায় সামান্য বদল এনে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব। সেই তালিকায় কি জায়গা করে নিতে পারে ছাতু?
ছাতু সাধারণত শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা বা ছোলার ডাল গুঁড়ো করে তৈরি করা হয়। এতে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন ও ফাইবারও থাকে। ফলে অনেকের কাছে এটি তুলনামূলক হালকা এবং পেটের জন্য সহনীয় খাবার হিসেবে পরিচিত।
কোষ্ঠকাঠিন্যে ছাতু কেন উপকারী হতে পারে?
ছাতুতে থাকা ফাইবার মলকে নরম রাখতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিবিধিতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত জল খেলে ফাইবার অন্ত্রে জল ধরে রাখে, ফলে মলত্যাগ সহজ হতে পারে। যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ছাতু রাখা উপকারী হতে পারে।
ছাতুতে থাকা কিছু শর্করা ও প্রতিরোধী স্টার্চ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবেও কাজ করতে পারে। এর ফলে সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পেট ফাঁপা বা IBS থাকলে কী ভাবে খাবেন?
তবে সবার শরীর এক রকম নয়। IBS-এ আক্রান্ত কারও ক্ষেত্রে ফাইবার উপকারী হলেও, অন্য কারও ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে ছোলা বা ডালজাতীয় খাবার গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই প্রথম থেকেই বেশি পরিমাণে ছাতু খাওয়া ঠিক নয়।
ছাতু খেতে চাইলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। ১-২ চামচ ছাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা গরম জলে মিশিয়ে পাতলা শরবত তৈরি করা যায়। শরীর সহ্য করলে সামান্য পাতিলেবুর রস, সৈন্ধব লবণ বা ভাজা জিরের গুঁড়ো যোগ করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত নুন, চিনি বা মশলা না দেওয়াই ভাল।
ছাতু ঘন করে খাওয়া বা ছাতুর পরোটা নিয়মিত খাওয়ার বদলে পাতলা শরবত তুলনামূলক হালকা বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখে পরিমাণ ঠিক করা জরুরি।
শুধু ছাতু খেলেই কি পেটের অসুখ সেরে যাবে?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—ছাতু কোনও রোগের ওষুধ নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের গোলমালে এটি সহায়ক খাবার হতে পারে, কিন্তু IBS বা দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প নয়।
বার বার পেটে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী পেট ফাঁপা, মলত্যাগের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন, মলে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গ থাকলে নিজের মতো খাবার বদলে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জল, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং নিজের জন্য উপযুক্ত সুষম খাদ্যাভ্যাসও পেট ভাল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, পরিমিত পরিমাণে এবং শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী ছাতু দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। কিন্তু পেটের সব সমস্যার একমাত্র সমাধান হিসেবে ছাতুর উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।