পৃথিবীর চেয়ে ন’গুণ বড়, তবু জলে ডুববে না শনি! সৌরজগতের ‘ভাসমান’ দৈত্যের অজানা রহস্য

পৃথিবীর চেয়ে ন’গুণ বড়, তবু জলে ডুববে না শনি!! সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ শনি আকারে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ন’গুণ বড়। এত বিশাল একটি গ্রহ সম্পর্কে একটি আশ্চর্য তথ্য দীর্ঘদিন ধরেই…

June 18, 2026
0 min read

পৃথিবীর চেয়ে ন’গুণ বড়, তবু জলে ডুববে না শনি!!

সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ শনি আকারে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ন’গুণ বড়। এত বিশাল একটি গ্রহ সম্পর্কে একটি আশ্চর্য তথ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু— যদি কোনও ভাবে তাকে একটি বিশাল জলাশয়ে ফেলা যেত, তবে সে ডুবে যেত না, বরং ভেসে থাকত!

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এর পিছনে রয়েছে পদার্থবিদ্যার একটি সহজ নিয়ম। যে বস্তুর গড় ঘনত্ব জলের চেয়ে কম, সেটি জলে ভাসতে পারে। আর শনির গড় ঘনত্ব জলের ঘনত্বের থেকেও কম। এই কারণেই নাসা মজার ছলে বলে, যদি মহাবিশ্বে শনিকে ধরার মতো বিশাল কোনও বাথটাব থাকত, তবে সেখানে শনি ভেসে থাকত।

কেন এত হালকা শনি?

শনির অধিকাংশ অংশ তৈরি হয়েছে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে। এই দুই গ্যাসই অত্যন্ত হালকা। সূর্যও মূলত একই উপাদানে গঠিত। অন্যদিকে পৃথিবী, মঙ্গল বা শুক্রের মতো গ্রহগুলির গঠন শিলা ও ধাতু দিয়ে, ফলে তাদের ঘনত্ব অনেক বেশি।

কোনও বস্তুর ঘনত্ব নির্ধারিত হয় তার ভর ও আয়তনের অনুপাতে। শনির আয়তন বিশাল হলেও তার ভরের তুলনায় সেই আয়তন এত বেশি যে গড় ঘনত্ব নেমে এসেছে জলের নিচে। ফলে আকারে বিরাট হলেও ঘনত্বের বিচারে সে আশ্চর্য রকমের ‘হালকা’।

ভিতরে কিন্তু লুকিয়ে আছে ভারী কেন্দ্র

তবে শনি পুরোপুরি হালকা গ্যাসের বল নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহটির কেন্দ্রে রয়েছে লোহা ও নিকেলের ঘন কোর। সেই কেন্দ্রকে ঘিরে রয়েছে শিলার স্তর, তার বাইরে তরল ধাতব হাইড্রোজেন এবং আরও বাইরে তরল হাইড্রোজেনের বিশাল স্তর। এই বিভিন্ন স্তরের গড় হিসাব করলেই শনির সামগ্রিক ঘনত্ব জলের চেয়ে কম হয়ে যায়।

বৃহস্পতি কেন ভাসবে না?

মজার বিষয় হল, বৃহস্পতিও মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে তৈরি। তবুও তাকে যদি জলে ফেলা যেত, তাহলে সে ডুবে যেত। কারণ বৃহস্পতির বিপুল ভর ও শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ তার উপাদানগুলিকে আরও বেশি সংকুচিত করে রেখেছে। ফলে তার গড় ঘনত্ব জলের চেয়ে বেশি।

শনির ক্ষেত্রে এই সংকোচন তুলনামূলক কম হওয়ায় তার ঘনত্ব এখনও জলের নিচে রয়েছে। এটাই তাকে সৌরজগতের সবচেয়ে কম ঘনত্বের গ্রহে পরিণত করেছে।

বাস্তবে কি কখনও দেখা সম্ভব?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তবে এমন কোনও জলাশয় বা সমুদ্রের অস্তিত্ব নেই, যেখানে একটি গ্রহকে ফেলে তার ভাসা বা ডোবা পরীক্ষা করা সম্ভব। তাই শনির ‘ভেসে থাকার’ ধারণাটি সম্পূর্ণ তাত্ত্বিক।

তবে এই তথ্য আমাদের বুঝিয়ে দেয়, কোনও বস্তুর আকার যত বড়ই হোক না কেন, তার আচরণ নির্ভর করে মূলত ঘনত্বের উপর। পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৯৫ গুণ বেশি ভর থাকা সত্ত্বেও শনির বিশাল আয়তন ও গ্যাসীয় গঠন তাকে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে— সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ, যার গড় ঘনত্ব জলের চেয়েও কম।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *