পুরুষ কোচের সঙ্গে একই ঘর প্রণতির!
এশিয়ান গেমস শুরু হতেই জাপানের আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। থাকার ঘর থেকে খাবার, যাতায়াত থেকে অনুশীলনের জায়গা—বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দাবি। এ বার সেই তালিকায় নাম উঠল বাংলার জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েকেরও। অভিযোগ, নাগোয়া গেমস ভিলেজে থাকার জন্য তাঁকে পুরুষ কোচের সঙ্গে একই ঘর বরাদ্দ করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার জাপানে পৌঁছন ভারতীয় জিমন্যাস্টিক্স দল। নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা একটি জাহাজকে অস্থায়ী গেমস ভিলেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে পৌঁছে প্রণতি জানতে পারেন, তাঁর ঘরটি পুরুষ কোচ অশোক মিশ্রের সঙ্গে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রণতি এবং অশোক দু’জনেই বিস্মিত হন। ভারতীয় দলের তরফেও আয়োজকদের জানানো হয়, মহিলা খেলোয়াড় এবং পুরুষ কোচকে একই ঘরে রাখা সম্ভব নয়।
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ভারতীয় দলের হস্তক্ষেপে অশোকের জন্য একটি হোটেলে ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। ততক্ষণে স্থানীয় সময় রাত ২টো। সেখানেও নতুন সমস্যা দেখা দেয়। হোটেলে পৌঁছে অশোক জানতে পারেন, তাঁর নামে কোনও ঘর বরাদ্দ নেই। পরে জানা যায়, হোটেলের নথিতে তাঁর নামের বানান ভুল থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
শুধু জিমন্যাস্টিক্স দলই নয়, ভারতীয় শুটিং দলকেও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের জন্য প্রথমে কোনও ঘর বরাদ্দ করা হয়নি। সারা রাত হোটেলের লবিতে অপেক্ষা করার পর ভোরের দিকে খেলোয়াড়েরা ঘর পান। সাপোর্ট স্টাফদের আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বলে জানা গিয়েছে।
সমস্যার কথা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন ভারতীয় মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় বরুণ সান্যালও। তাঁর দাবি, জাপানে পৌঁছে নিজের নামই আয়োজকদের কম্পিউটার তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গেমস কর্তৃপক্ষের পরিচয়পত্র এবং ভিসার কাগজপত্র দেখানোর পরেও তিন ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। পরে জাহাজে থাকার ব্যবস্থা হলেও সেই সময়ের মধ্যে খাওয়ার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বরুণ আরও জানিয়েছেন, শুধু ভারতীয় খেলোয়াড় নন, শ্রীলঙ্কা ও তাজিকিস্তানের কয়েক জন খেলোয়াড়ও একই সমস্যায় পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, খেলোয়াড়দের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এমন ক্রীড়াবিদদের জন্য নিয়মিত খাবার পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ এসেছে অন্য দেশ থেকেও। দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল দল এক দিন অনুশীলনে যেতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে, কারণ নির্ধারিত বাস সময়মতো পৌঁছয়নি। আগের দিন ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বাসের জন্য স্টেডিয়ামে অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলারদের।
আরও একটি ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার বেসবল দলকে অনুশীলনের জন্য ভুল করে রাগবি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভুল বুঝতে পেরে তাঁদের বেসবল স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩০ মিনিট অনুশীলনের সময় নষ্ট হয়েছে বলে দাবি। বিভিন্ন দেশের সাঁতারুদেরও থাকার জায়গা থেকে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে যাতায়াতে প্রায় দু’ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।
নাগোয়া জাপানের অন্যতম বড় শহর। আয়োজকদের দাবি, এশিয়ান গেমস উপলক্ষে প্রায় ১৭ হাজার খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর ব্যবস্থাপনার মধ্যেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় আয়োজকদের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।